একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেনকে ভাড়া করেছিলেন অথচ তিনি কাজ করেছেন আওয়ামী লীগের পক্ষে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যবসায়ী ব্যাংকের মালিক, গার্মেন্টেসের মালিক, ওষুধ কোম্পানির মালিক, এমনকি তারা সংবাদপত্রের মালিকও। তারা আজকে সরকারি দলে ঢুকে ক্ষমতাসীন হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা আমাদের বন্ধু হতে পারে না। এই সংসদ হবে রাজনৈতিক নেতাদের সংসদ। দেশে পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো নেত্রীর কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলে। এরা দুই দিকেই সুবিধা নেয়। ওদিকেও সুবিধা নেয়, এদিকেও সুবিধা নেয়।
আজ (২৫ জুন) মঙ্গলবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নাসিম এইসব কথা বলেন। এসময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি বার বার ভুল করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি লোক ভাড়া করল। কাকে করলেন? আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত নেতাকে। অত্যন্ত বিদগ্ধ শিক্ষিত মানুষ। বিএনপি সেই শিক্ষিত মানুষকে ভাড়া করল, কামাল হোসেনের মত একজন ব্যর্থ চক্রান্তকারী মানুষকে ভাড়া করল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সামনে দাঁড় করাল। জিততে পারবেন? জিততে পারবেন না। তিনি কি করলেন আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করে দিলেন। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। এই হচ্ছে ভাড়াটিয়া নেতার উপহার। ওরা ভাড়া করলো আর কাজ করল আমাদের জন্য।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, নির্বাচনে কামাল হোসেন সমস্ত মাঠ খালি করে দিলেন। আমার নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাই না। একজন গায়িকা দিয়েছিলেন, সেই গায়িকাকেও খুঁজে পাওয়া গেল না, গানও পাওয়া গেল না। ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছি। খেলা যদি ফাঁকা মাঠে হয়, কি করব? দুই দিকে গোল পোস্ট থাকে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা থাকেন ফরওয়ার্ডে, আরেক দল মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল, গোল তো দেবই বার বার গোল দেব।
সাবেক এই মন্ত্রী সরকারি আমলাদের কাজের সমালোচনা করে বলেন, আমলাতন্ত্রের উপর নির্ভর করে সকল সিদ্ধান্ত নিলে ঠিক হবে না। এমপিদের প্রাধান্য দিয়ে করতে হবে। আমরা হচ্ছি রাজনৈতিক সরকার। যে যত বড় আমলা সে তত ফাইল আটকে রাখে। আমলাতন্ত্রের মধ্যে কিছু আছে তারা দীর্ঘদিন সরকারকে বিব্রত করার জন্য সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য কাজ করছে। সারাদেশে ব্যাংকিং সেক্টর, সচিবালয় সর্বত্রই জামায়াত-শিবির বসে আছে। এই স্বাধীনতা বিরোধী শত্রুরা শিকড় গেড়ে বসে আছে। এরা চায় সব সময় আওয়ামী লীগের ব্যত্যয় ঘটাতে।
ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কষ্ট পাই আমাদের সরকারের আমলে ব্যাংক সেক্টর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেবের সময় থেকে বলা হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেল। ঋণ খেলাপিদের কেনো ছাড় দেয়া হল। এই ঋণ খেলাপিদের ছাড় দেয়ার প্রশ্নেই ওঠে না। তিনি ঋণখেলাপিদের ছাড় না দেয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ব্যবসায়ী ব্যাংকের মালিক, গার্মেন্টেসের মালিক, ওষুধ কোম্পানির মালিক, এমনকি তারা সংবাদপত্রের মালিক। এই ধরনের বহুবিধ বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আছে। তারা সব ব্যাপারে অভিজ্ঞ। তারা আজকে সরকারি দলে ঢুকে ক্ষমতাসীন হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা আমাদের বন্ধু হতে পারে না। এই সংসদ হবে রাজনৈতিক নেতাদের সংসদ। যারা রক্ত দিয়ে ঘাম দিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই ব্যবসায়ীরা যারা কোনোদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেনি, কোনোদিন রাজপথে লড়াই করেনি। এরা কারা, এদের সবাইকে চিনি। এরা হচ্ছে সুখের পায়রা। বিপদের সময় খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরা পালিয়ে গিয়েছিল ১/১১ -এর সময়। যখন বিএনপি-জামায়াত আগুন দিয়েছিল মানুষ পুড়ে মারছিল তখন তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, এখন দেশে পত্রিকার দিকে তাকালে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দিকে তাকালে দেখা যাবে নেত্রীর কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলে। এরা দুই দিকেই সুবিধা নেয়। ওদিকেও সুবিধা নেয়, এদিকেও সুবিধা নেয়।
বিএনপি’র সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বগুড়ার দিকে তাকিয়ে দেখুন। আপনারা বলেছেন নির্বাচন নাকি অবাধ হয় না। ইভিএম নিয়ে কথা বলেছেন অথচ সেই ইভিএম-এ ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। বিজয়ী সিরাজ বলেছে ইভিএম ঠিকমত চললে নাকি ডাবল ভোট পেত। আসলে বিএনপি এ ধরনের অসত্য কথা বলায় চ্যাম্পিয়ন। এ সময় রসিকতা করে একটি গানের কয়েক কলি শোনান তিনি।
নাসিম বলেন, এই গানটা মতিয়া চৌধুরী ভাল জানেন। ভুল সবই ভুল জীবনের পাতায় পাতায় ভুল। বার বার ভুল করেছে। ২০১৪ সালে একবার ভুল করল, নির্বাচনে না এসে। আবার নির্বাচন আসল ২০১৮ সালে, আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত লোক ভাড়া করে।
এমবি





