পুলিশি বাধায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তার জন্য আনা খাবার দিতে পারেননি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের একটি দল। একপর্যায়ে সেই খাবার রাস্তার ওপর রেখে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান ওই কর্মকর্তারা।

সামরিক কর্মকর্তাদের আনা খাবারের মধ্যে ছিল রান্না করা ভাত-মাছ-মাংস, পানির বোতল ও কলা-প্যাকেট জুস।

শনিবার দুপুরের দিকে অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কে উত্তর দিকের মোড়ে এসে পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার এম ওয়াহিদ উন নবী, স্কোয়াড্রন লিডার টুক জামিল, স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ তারেক, মেজর জামালী হায়দার, ক্যাপ্টেন ফিরোজ ইফতেখার, লে. কমান্ডার সাইফুল আলম, ফ্লাইট লে. মোহাম্মদ রেজোয়ান প্রমুখ।

সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে কার্যালয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেও তাদের যেতে দেয়নি পুলিশ। পরে সামরিক এই কর্মকর্তারা পুলিশকে অনুরোধ জানান, রান্না করা দুপুরের খাবারগুলো গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছে দিতে। কিন্তু সাদাপোশাকে পুলিশের গুলশান থানার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো খাবার ভেতরে যাবে না। উপরের থেকে নিষেধ আছে।’

এরপর সাংবাদিকদের কাছে অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার রেজাউর রহমান ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘এটা দুঃখজনক। আমরা আমাদের সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রীর জন্য মানবিক কারণে কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম, তা সেখানে নিতেও দিচ্ছে না পুলিশ। এমনকি পৌঁছেও দিতে চাচ্ছে না তারা।’

তিনি বলেন, ‘এ থেকে বুঝা যায়, পরিস্থিতি এখানে স্বাভাবিক নয়। আমরা গণমাধ্যমে শুনেছিলাম, বেগম জিয়ার কার্যালয়ে খাবার যাচ্ছে না। তা আজ প্রত্যক্ষ করলাম।’

পরে রেজাউর রহমানসহ তার সহকর্মীরা খাবারগুলো পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে তা রাস্তার পাশে রেখে তারা চলে যান।

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনীতি করি না। জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার স্ত্রী অভুক্ত আছেন বলেই আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে নিজেরা রান্না করে নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু কার্যালয়ের কাছেই পুলিশ আমাদের যেতে দিল না।

এমএইচ