ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ ও আয়কর ফাঁকির মামলায় জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আয়কর ফাঁকির অভিযোগে করা মামলাটি ২৮ ডিসেম্বর এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলাটি শুনানির জন্য ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আজ সোমবার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক সৈয়দা হোসনে আরার আদালত এ আদেশ দেন।
দেলায়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী সাইফুর রহমান বলেন, আজ সকাল সাড়ে ৯টা মাওলানা দেলায়ার হোসাইন সাঈদীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর সাড়ে ১১টায় প্রথম দিনের শুনানিতে প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত সময় মঞ্জুর করে নতুন দিন নির্ধারণ করেন। পরে সাড়ে ১১টার দিকে মাওলানা দেলায়ার হোসাইন সাঈদীকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আয়কর ফাঁকির মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একমাত্র আসামি। অর্থ আত্মসাতের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ছয়জন আসামি। অপর পাঁচ আসামি হলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুল হক, মসজিদ কাউন্সিল ফর কমিউনিটি এডভান্সমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বন্ধুজন পরিষদের প্রধান সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ ইউনুস, ইসলামী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হক।
আসামিদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে আছেন। আবুল কালাম আজাদ এবং আব্দুল হক পলাতক রয়েছেন। অপর তিন আসামি জামিনে আছেন।
ইফার যাকাত তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আইয়ুব আলী চৌধুরী ২০১০ সালের ২৪ মে শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এদিকে, দুই কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকা আয় গোপন করে তার ওপর প্রযোজ্য কর ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৮১২ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১১ সালের ১৯ আগস্ট এনবিআর মামলাটি দায়ের করা হয়। পরের বছর ১৫ সেপ্টেম্বর মামলাটি সাঈদীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ নিয়ে করাগারে আছেন।
এএস





