বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ভোট না দিলে জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যায় না। আমরা নির্বাচনে যাইনি। নির্বাচনে জনগণও অংশগ্রহণ করেনি। তাই ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। এ থেকে বোঝা যায় বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল।

তিনি বলেন, বিদেশীরা এটা বুঝতে পেরে বারবার সংলাপে বসার জন্য বলছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ জানে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না, সেজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে তারা নির্বাচন দিচ্ছে না।

রোববার বিকালে জয়পুরহাটের রামদেও বাজলা স্কুল মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ দুর্নীতিবাজ। এরা পদ্মা সেতু দুর্নীতি, কুইক রেন্টাল থেকে টাকা নেয়া, শেয়ার সার্কেট ধ্বংসসহ বিভিন্নভাবে টাকা চুরি করে সুইস ব্যাংকে জমিয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করে এসবের ব্যবস্থা নিন। মিথ্যা মামালা দিয়ে আমাদের এবং সাধারণ জনগণকে হয়রানি করবেন না।

বর্তমান বিচার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের কুক্ষিগত উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এই সরকার ৩১০ জন নেতাকে হত্যা করেছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করেছে। কিন্তু এসবের কোনো বিচার হচ্ছে না।

দেশে দুই রকম বিচার ব্যবস্থা চলছে। একটি হলো আওয়ামী লীগের জন্য আর অন্যটি হলো বিএনপি এবং দেশের সাধারণ মানুষের জন্য। তারা যতই অন্যায় করুক না কেন তার কোনো বিচার নেই। আর সাধারণ মানুষদের ওপর চলছে অমানবিক নির্যাতন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির নেতা রাসেলের পা কেটে নিয়েছে আওয়ামী লীগের সোনার সন্তানেরা। কিন্তু তার কোনো বিচার নেই। এখনও পর্যন্ত কেউ আটকও হয়নি।

র‌্যাব বিলুপ্তি সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জে বর্বরচিত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে র‌্যাব। এই র‌্যাব আমরাই গঠন করেছিলাম। তখন তারা জঙ্গি দমন করেছিল। কিন্তু এখন তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং গুম করা হচ্ছে। এজন্য তাদের আর প্রয়োজন নেই।

এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনাকে দোষারোপ করে বিএনপি নেত্রী বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছে শেখ হাসিনা নিজে।

তার দায়িত্বরত অবস্থায় সাতক্ষীরা, লক্ষীপুরসহ দেশব্যাপী হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। হেফাজতের সমাবেশে নিরস্ত্র মানুষদের ওপর অস্ত্রধারী র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালোনো হয়েছে। এসবের জবাব তাকে দিতে হবে। সব হত্যার বিচার করা হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, পোশাক শিল্প আজ ধ্বংসের পথে।এই শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আজ সেখানে ঢুকে গেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এজন্য বিদেশীরা বিনোয়োগ করছে না এবং দেশীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছে। এদের ক্ষমতা থেকে না নামালে এই শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সম্মানীদের সম্মান দিতে যানে না। ড. ইউনুস, যিনি বাংলাদেশের প্রথম নোবেল বিজয়ী তাকে পর্যন্ত নানা অভিযোগ দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ। তাকে নানাভাবে অপমান করা হয়েছে।

কিন্তু সাহায্য করা হচ্ছে শামীম ওসমান, নিজাম হাজারী এবং যারা বিহারী পল্লীতে আগুন দিয়েছে তাদেরকে। এরা সন্ত্রাসীদের গডফাদার। এদের জননী শেখ হাসিনা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার পাশের হার বাড়াচ্ছে প্রশ্ন ফাঁস করে। শিক্ষাকে তারা নষ্ট করছে।এই দেখানো ডিগ্রি নামে, কোনো কামে লাগবেনা।

কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সারের মূল্য, সেচের দাম ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। আমরা কৃষিকে উন্নত করতে জোর প্রচেষ্টা চালাবো বলে অঙ্গীকার করেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, আজ অর্থনীতি বিপর্যস্ত। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সকল ব্যাংকের অবস্থা খারাপ করেছে সরকার। তাদের আমলে দুর্ভীক্ষ দেখা দেয়।

'৭৪ এ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। কুকুর বমি করেছে মানুষ তা ক্ষেতে গেছে। এই অবস্থার সৃষ্টি করতে চায় তারা। তখন রক্ষি বাহিনী দিয়ে যা করা হয়েছিল এখন র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে তাই করানো হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে কেউ নিরাপদ নয়। তাদের মন্দির ভেঙ্গে জায়গা দখল করে। খ্রিষ্টানদের গির্জায় বোমা মেরে ২০ জনকে হত্যা করেছে।

রামুতে বৌদ্ধদের উপসনালয়ে সবকিছু পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সংখ্যালঘু বলি না। আমরা সকলকে সমান অধিকার দেই। আমরা বলি আমরা সকলে বাংলাদেশি।

তিনি বলেন, আমরা দলমত নির্বিশেষে সকল তরুনদের চাকরির ব্যবস্থা করব। মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। কাউকে বঞ্চিত করব না। সকলের মুখে হাসি ফুটাব।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা টেলিভিশনে গলাবাজি করে আর মিথ্যা কথা বলে। শেখ হাসিনা বলে আমাকে দেশে জায়গা দেয়া হয়নি।

কিন্তু শহীদ জিয়াই আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম দিয়েছে। জিয়াউর রহমানই তাদেরকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছেন। অথচ শেখ হাসিনাকে দেশে আনার ১৩ দিন পরই জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।

বৃষ্টির মধ্যে বক্তব্য শোনার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের পর কঠোর আন্দোলন দেয়া হবে। কোনো কর্মসূচিই বাদ যাবে না। এই অবৈধ সরকার আন্দোলনে বাধা দিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

সবশেষে অবৈধ সরকার পতনের আন্দোলনে সবাইকে যোগদানের জন্য আহবান জানান বিএনপি চেয়ারপানসন বেগম খালেদা জিয়া।

ঢাকা, ২২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ// এসআর