যুক্তরাজ্য ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হামজা শাতিলকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বের হওয়া মাত্রই শাতিলকে আটক করা হয়।
গত বছর বাগেরহাট নিবাসী অসুস্থ বাবাকে দেখতে লন্ডন প্রবাসী শাতিল দেশে আসেন। বাবাকে দেখে লন্ডনে ফিরে যাওয়ার সময় গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর উত্তরা থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে। ওই সময়ে প্রথমে শাতিলকে আটকের কথা অস্বীকার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে আটক দেখিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পেন্ডিং মামলায় আটক দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এই ছাত্রদল নেতার স্বজনরা জানান, শাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় জামিন হওয়ার পর আরেকটি নতুন মামলায় আটক দেখিয়ে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছিল। এভাবে একে একে ৩২টি মামলায় আসামি করা হয় তাকে। ৩২ মামলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০ মামলায় জামিন পান শাতিল।
সর্বশেষ রমনা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি ও পল্টন থানার নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
শাতিলের স্বজনরা জানান, কয়েক দিন আগে সর্বশেষ দুই মামলাতেও আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। শনিবার সকালে দুই মামলার জামিন আদেশ কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছে। এরপর সকাল ১১টার দিকে তিনি কারাগারে বের হতে প্রধান গেটে পা রাখতেই তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
উল্লেখ্য, ছাত্রদল নেতা আমির হামজা শাতিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সরকার সমর্থিত ছাত্রলীগের সাথে একাধিকবার বিবাদে জড়ান। এর প্রেক্ষিতে পড়াশোনা শেষ না করেই লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। লন্ডনে স্থাপত্যবিদ্যায় গ্রাজুয়েশন করেন তিনি।
পরবর্তীতে আইনশাস্ত্রেও উচ্চতর ডিগ্রী নিতে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু অসুস্থ বাবাকে দেখতে এসে আটক হয়ে গত ছয় মাস ধরে বন্দি আছেন তিনি।
ইআর/এমএইচ





