বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন' পৈশাচিক গণহত্যার দায় নিয়ে শেখ হাসিনাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, সেদিন আর বেশী দূরে নয়। নির্বিচারে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করার আদেশ দান করে তিনি সেই দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। তার দলের নেতা-মন্ত্রীরা মিছিলকারীদের কোন কোন অঙ্গে কিভাবে গুলি করতে হবে তার নির্দেশনাও দিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিটি এপাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল।
রোববার ঢাকা মহানগরের শাহ আলী থানার শিবির নেতা এমদাদ উল্লাহকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ক্রসফায়ারের আষাঢ়ে গল্প সাজানো হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। ইতোপূর্বে ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি, মতিয়ার রহমান, শিবির নেতা আসাদুজ্জামান তুহিন, জামায়াত নেতা এমরুল কায়েসসহ সারাদেশে যে সকল বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এভাবে হত্যা করা হয়েছে সেসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুকুমের আসামী করা হবে।
“নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল দরজা বন্ধ করে, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করে, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ব্যবস্থা রুদ্ধ করে, সংবাদ পত্র ও টেলিভিশন বন্ধ করে সরকার অনিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন এবং উগ্র পন্থাকেই উৎসাহিত করছে, যার ফলশ্রুতিতে দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র বিলুপ্তপ্রায়। গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত হলে এই ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকারকেই তার দায় নিতে হবে।
বিরোধী দলের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে, গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ বন্ধ রেখে, খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট সংযোগ কর্তন করে বর্বর ও পৈশাচিক কায়দায় জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা বুমেরাং হতে বাধ্য।
যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে সরকার মধ্যরাতের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ পরিচালনায় দলীয়করণকৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রণসজ্জায় সজ্জিত করে শহর, বন্দর, গ্রামসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলকে ভয়াল জনপদে পরিণত করেছে।
সরকারি পেটোয়াবাহিনীর শত সহস্রবুলেটের আঘাতে অজস্র আন্দোলনকারী রাজপথে প্রতিনিয়ত প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছে অকাতরে। গ্রেফতার বরণ করছে আন্দোলনকারী অসংখ্য নেতাকর্মীসহ নিরীহ জনগণ। জাতি তাদের আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণে রাখবে।
গতকাল সরকারের গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, এনটিভি’র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব মোসাদ্দেক আলী ফালুকে। আমি তার গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং তার নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি। ইতোপূর্বে একুশে টিভি’র এমডি জনাব আ: সালামকেও বিনা অপরাধে গ্রেফতার করে এবং একুশে টিভি’র সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেশের প্রায় সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে বিভিন্ন কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করে সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার ষড়যন্ত্রের একটি অংশ হিসেবে এসকল দমণ-পীড়ণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
গতকাল ‘নিউ এইজ’ পত্রিকার দু’জন সাংবাদিক একইভাবে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে মরণযন্ত্রণা ভোগ করছে। আমরা সকল সাংবাদিক নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ এবং ধিক্কার জানাই। সাথে সাথে আহবান জানাই দেশের সাংবাদিক সমাজকে এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য। একই সাথে প্রখ্যাত সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানাচ্ছি।
দাবি জানাচ্ছি-কারারুদ্ধ বিপ্লবী সম্পাদক জাতির সাহসী কন্ঠস্বর জনাব মাহমুদুর রহমানের নি:শর্ত মুক্তির। সরকারকে এই বলে হুঁশিয়ার করতে চাই যে, সাংবাদিক এবং সংবাদ মাধ্যমকে দমন করে, নিয়ন্ত্রণ করে কোনো সরকার গদি রক্ষা করতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না। ইতিহাস তাই সাক্ষ্য দেয়।
একই সাথে আমি মিরপুরের নাসিম প্লাজায় দু:খজনক অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভুতি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরকে উক্ত ঘটনায় সহযোগিতা করার আহবান জানাচ্ছি।”
জেআই





