বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান বলেছেন, দেশপ্রেমিক সমৃদ্ধ জাতি গঠনে ইসলামী নৈতিকতার শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষিত জাতি গঠনের পরিবর্তে সরকার শিক্ষার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ধর্মহীন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে এখন শিক্ষা আইন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামী ভাবধারা মুছে ফেলা হচ্ছে। ইসলাম ও মুসলমান জাতিসত্তা ধ্বংসের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন ছাত্র সমাজ মানে না। তিনি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত দেশপ্রেমিক আদর্শ জাতি গঠনে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আজ সোমবার রাজধানীতে ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেন, এইচআরডি সম্পাদক আহমেদ সালমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
শিবির সভাপতি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে মেধাবীদের মাঝে নৈতিক জ্ঞানের অনুপস্থিতির কারণে দেশ সামনের দিকে এগুতে পারছে না। দুর্নীতির মহামারী বার বার আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে মেধাবীরা রাষ্টের গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত থেকে দুর্নীতি করছে অবাধে। দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাক্রমে নীতি নৈতিকতার সমন্বয় থাকলে তারা দেশের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হত। দেশ এগিয়ে যেত সমৃদ্ধির দিকে। কিন্তু জাতির দূর্ভাগ্য তা আর হয়নি। যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেছেন তারা কেউই ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থার বলয় থেকে বাইরে আসতে পারেনি। বরং সব শাসকই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে নৈতিকতাহীন শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছে। ফলে লজ্জজনকভাবে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত হয়েছে বিশ্ব দরবারে। বর্তমানে অবস্থা আরও ভয়াবহ।
প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশার কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা উল্টো ফল বয়ে এনেছে। বই পুস্তক থেকে সুকৌশলে ইসলামী শিক্ষাকে তুলে দিয়ে সেখানে পৌত্তলিকতা ও অনৈতিকতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছু নয়। এর ফলাফল হবে আরও ভয়াবহ। ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো ছাড়া জাতির প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব নয় এটা আজ দিবালোকের মত স্পষ্ট।
শিবির সভাপতি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ডহীন কোন প্রাণী যেমন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তেমনি ভাবে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংষ্কৃতি, ধর্মীয় চেতনা ও আদর্শের পটভূমিতে প্রতিষ্ঠিত নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা ব্যতীত কোন জাতিও বিশ্বের দরবারে শির উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত সভ্য ও উন্নত।
তিনি বলেন, দেশ আজ সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের নগ্ন হামলার শিকার। সম্প্রতি জঙ্গি হামলার ঘটনা থেকে দেখা যায় যে, সেকুলার ভাবধারার তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাই এর সাথে বেশি জড়িত। সচেতন মহল থেকে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা না থাকার কারণেই ছাত্ররা জঙ্গিবাদের সাথে জাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিত মোকাবেলার জন্য ছাত্রদেরকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা দেয়ার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ ধর্মীয় চেতনা, নৈতিকতা ও আদর্শিক ভিত্তির উপর ভিত্তি করে গণমুখী-বাস্তব ও কর্মমুখী সার্বজনীন। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন শিক্ষানীতি প্রনয়ন করেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চিন্তা, আকিদা-বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মানদখানো হয় নি। এখন সেই শিক্ষানীতির আলোকেই শিক্ষা আইন ২০১৬ চুড়ান্ত করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ধর্মহীন শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইন পাস করা হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদি ও হিন্দুত্ববাদি মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠবে। তিনি সরকারকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের চিন্তা চেতনার আলোকে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ইসলামীবিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতির জন্য অভিশাপ হবে তা বহু বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন শহীদ আব্দুল মালেক। তার আশঙ্কাই আজকের বাস্তবতা। তিনি ছিলেন তখনকার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম।
১৯৬৯ সালের ১২ আগষ্ট ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে কথা বলার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও সমাজতন্ত্রীদের নির্মম আঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগষ্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তারা ভেবে ছিল আব্দুল মালেককে হত্যা করলেই ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। তার রেখে যাওয়া স্বপ্নের পথে হাটছে আজ লাখো তরুন।
তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান রেখে বলেন, কেউ এগিয়ে আসুক বা না আসুক ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের অবশ্যই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। দেশের প্রতিটি ছাত্রকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে এজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এ কাজের দায়িত্ব ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদেরকেই নিতে হবে । সমাজের প্রত্যেকটি ছাত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছিয়ে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।
এমবি





