জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, 'ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে। বেছে বেছে প্রতিদিনই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করছে। গোটা দেশকে এক রক্তাক্ত জনপদে পরিণত করেছে সরকার। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে অস্বীকার করার নতুন সংস্কৃতি চালু করেছে।
মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানান তনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডাকসুর সাবেক ভিপি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নাগরিক ঐক্যের অন্যতম নেতা জনাব মাহমুদুর রহমান মান্নাকে তার আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু এখন তারা অস্বীকার করছে। তিনি কোনো অন্যায় করে থাকলে তাকে আদালতে সোপর্দ করে বিচারের ব্যবস্থা না করে এই ধরনের লুকোচুরি খেলানো হচ্ছে কেন? রাষ্ট্রের একজন বিশিষ্ট নাগরিকের সাথে এ আচরণ জনগণ কিছুতেই মেনে নিবে না। একই কায়দায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সাবদিন ভগবতিপুর গ্রামের শামীম প্রধানকে সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় র্যাব বগুড়া শহর থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে তার মুক্তির দাবী জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। আমরা অবিলম্বে শামীম প্রধানকে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
বিৃবতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষ ধরে নিয়ে আটক রেখে আইন লংঘন করার যে ধারা সৃষ্টি করেছে তাতে সারা বাংলাদেশের জনগণ শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। কোন নাগরিক অন্যায় করলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারে সোপর্দ করার কথা আইনে বলা হয়েছে। কিন্তু দিনের পর দিন অন্যায়ভাবে আটক রাখার কোন এখতিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেয়া হয়নি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্মমতা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারের গণগ্রেফতার ও গণনির্যাতনের অংশ হিসেবে আজ সারা দেশে জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন- সুনামগঞ্জ জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এহসানুর রহমান ইরাক।
গণহত্যা, গ্রেফতার ও গণনির্যাতন এই মুহূর্তে বন্ধ করে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
কেএইচ





