বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, চলমান গণআন্দোলন নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দলন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে সরকার।
আজ বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জানুয়ারি রাতে উত্তরার ওয়ামী অফিস থেকে কর্তকর্তা শাহজাহান ও ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর শাহজাহানপুরস্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্মকর্তা নাহিদ জামালকে গ্রেফতার করা হলেও তাদেরকে বিধি মোতাবেক এখনও আদালতে সোপর্দ করা হয়নি।
যা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মারাত্মক লংঘন। পুলিশ কদমতলী পূর্ব থানা থেকেও ১ জনকে আটক করেছে। বিরোধী দলের আন্দোলন নস্যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কথিত অভিযানের নামে পুরো নগরীতে তান্ডব সৃষ্টি করে ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে। সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা চলমান অবরোধের ২৩তম দিনে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা রাজধানীর মতিঝিল, রমনা, কদমতলী পূর্ব, মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর পূর্ব, মিরপুর পশ্চিম, পল্টন, শাহজাহানপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন থানা ও ষ্পটে রাজপথে নেমে অবরোধ কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফল করে গণবিরোধী সরকারের প্রতি গণঅনাস্থা জানিয়েছে।
তিনি সরকারকে হঠকারীতা পরিহার, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ, জুলুম-নির্যাতন পরিহার ও আটক শাহজাহান ও নাহিদ জামালসহ গ্রেফতারকৃত জোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও গণদাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে লজ্জাজকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতেই ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারসহ জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এতে সরকারের ষড়যন্ত্র কোন ভাবেই সফল হবে না বরং দলন-পীড়ন যত বাড়বে, জনতার প্রতিরোধও ততই শানিত হবে।
তিনি সরকারকে মামলা-হামলার রাজনীতি পরিহার করে জোট নেত্রীসহ ২০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার প্রত্যাহারের আহবান জানান। অন্যথায় তাদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে যখন বুদ্ধিজীবী মহল, সুশীল সমাজ, সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল একটি অর্থবহ সংলাপের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, তখন কতিপয় মন্ত্রী, সরকারি দলের নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় দলবাজ কর্মকর্তার দায়িত্বহীন, অসংলগ্ন ও উস্কানীমূলক বক্তব্য চলমান রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল হতে জটিলতর করে তুলেছে।
পুলিশ বাহিনীর অতিউৎসাহী কিছু সদস্য বিভিন্ন বাসাবাড়ী, অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কথিত তল্লাসী ও অভিযানের নামে নারকীয় তান্ডব চালিয়ে ভাঙ্গচুর, লুটপাট, গণগ্রেফতার ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত রয়েছে। যা কারো জন্যই কল্যাণকর নয়। মূলত সরকার গণআন্দোলনে দিশেহারা হয়ে এখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার ও দলীয় পেশীশক্তির মাধ্যমে জনগণের কন্ঠারোধ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ‘ যেকোন ভাবে দমন করুণ, দায়দায়িত্ব আমার ’ এমন দায়িত্বহীন ও উস্কানীমূলক বক্তব্য দেশকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, বিজিবি ডিজি ও র্যাব ডিজির পর এবার মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জনতার উপর গুলী চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে জনগণ এখন মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। থেমে নেই জনতার দুর্বার প্রতিরোধ। কিন্তু হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে অতীতে কোন স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আওয়ামী লীগেরও হবে না।
তিনি দলন-পীড়ন পরিহার, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার, গণতান্ত্রিক কর্মসূচীতে বাধাদান, হামলা, গুম, খুন ও অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ, গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবি এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখতে কৃষক, শ্রমিক, মজুর, শিক্ষক-ছাত্র, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, পেশাজীবী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, বিচারক, ব্যাংকার, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
এসএইচ





