নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতমুলক আচরণের’ অভিযোগ তুলে ভোটের আগে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতসহ চারটি দাবি নিশ্চিত করতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীান ২০ দলীয় জোট।
জোটের পক্ষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রার্থী বাছাইয়ে পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধির ক্ষেত্রেও তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।’
‘ইসি সিটি নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ জোটভুক্ত সকল দলের কার্যালয় অবিলম্বে খুলে দেবে, নির্বাচনী মাঠে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একপেশে আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে-এটাই জনদাবি।’
বৃহস্পতিবার রাতে বুলুর স্বাক্ষর করা এই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। সালাহ উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর তিনিই অজ্ঞাত অবস্থান থেকে দল ও জোটের পক্ষে বক্তব্য এবং কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে আসছেন।
বিবৃতিতে জোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মুখপাত্র বলেন, ‘জোর করে ক্ষমতায় আরোহনের পর থেকে আওয়ামী সরকার দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নাজুক ও বেহাল অবস্থায় নিপতিত করেছে। দেশে এখন একদিকে অপশাসন এবং অন্যদিকে সাংবিধানিক প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার মাধ্যমে এক ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার শাসন প্রবর্তন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এর ফলে দেশের প্রতিটি পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত সর্বত্রই সংঘাত, হানাহানি, খুন, জখম, গুম, অপহরণ ও বন্দুক যুদ্ধের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যার জঘন্য পাশবিকতার খেলা মঞ্চায়িত হচ্ছে। যে কারণে দেশের প্রতিটি জনপদে এখন গুম আতঙ্ক ও লাশের ছড়াছড়ি।’
বুধবার মেহেরপুর জেলায় ছাত্রদল নেতাকে আওয়ামী সমর্থকরা ‘নৃশংস কায়দায়’ কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
শাসকগোষ্ঠী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও মূলত: তারাই জঙ্গি শাসনের মাধ্যমে দেশ চালাচ্ছে- মন্তব্য করে বুলু বলেন, ‘দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির প্রতীক্ষায় স্বাধীনতাকামী জনগণ ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে সর্বাত্মক আন্দোলনে শামিল হয়েছে। কাঙ্খিত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।’
সরকারকে অবিলম্বে দেশের জনগণের ‘ন্যায্য দাবি’ মেনে নিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
‘সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীর মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ বিরোধী দলের গুমকৃত নেতা-কর্মীকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফেরত, বন্দুক যুদ্ধের নামে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বন্ধ এবং জোটের সব কার্যালয় তালামুক্ত ও দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সরকার যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে-এটাই জনগণ কামনা করে।’
তা না জলে জনগণ তাদের দাবি আদায়ে চলমান গণআন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত নিয়ে যেতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছে বলে জানান বরকত উল্লাহ বুলু।
এএইচ





