৭১এর মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং মীর কাসেম আলীসহ র্শীষ নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত সকাল-সন্ধ্যার শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচী পালনকালে সরকারি বাধা, পুলিশি হয়রানী ও হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে হরতাল কর্মসূচী ঢাকা মহানগরীতে সফল করায় সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাও. রফিকুল ইসলাম খান।
হরতাল পরবর্তী এক বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।
দেশ ও জাতিস্বত্তা বিরোধী সুদুরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওয়ান ইলেভেন সরকার ২০০৮ সালে একটি পাতানো ও সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে।
চলতে থাকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী এবং দেশকে পরাশ্রয়ী করদরাজ্য বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র । তারই অংশ হিসাবেই দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম রক্ষাকবজ কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়।
নির্বাচন কমিশনকে সাজানো হয় দলদাস লোক দিয়ে। ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন এখন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে।
দেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। দেশের বিচার বিভাগের উপর সরকারের অবৈধ খবরদারীও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ফলে সুশাসনের পরিবর্তে আওয়ামী দুঃশাসনের খড়গ শান্তিপ্রিয় জাতির ঘাড়ে নেমে এসেছে। দেশে এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় চেপে বসে তাদের গণবিরোধী ষড়যন্ত্রের ষোলকলা পূর্ণ করেছে। তারা দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করতেই জামায়াতের শীর্ষনেতৃবৃন্দ একের পর এক নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং আব্দুল কাদের মোল্লাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তারা একইভাবে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ অপর শীর্ষনেতৃবৃন্দকে হত্যা করতে চায়। সে সুদূর প্রসারী চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিভোর বাকশালী ও ফ্যাসীবাদী সরকার।
সরকারের নীলনকশা অনুযায়ি দলীয় তদন্ত কর্মকর্তা, দলীয় প্রশিকিউশন, ফরমায়েসী বাদী, সাজানো ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সাক্ষীদের সম্পূর্ণ মিথ্যা স্বাক্ষের ভিত্তিতে একজন জাতীয় নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
কিন্তু সরকার তাদের এসব গনতন্ত্র, দেশ ও স্বাধিনতা স্বার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও কথা বলার অধিকার পর্যন্ত সম্পূর্ণরুপে কেড়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনগণ ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। নগরবাসী সকাল-সন্ধ্যার হরতাল সর্বাত্মকভাবে সফল করে বাকশালী সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে তারা মীর কাসেম আলীকে হত্যার ষড়যন্ত্র ঘৃনাভরে প্রত্যাক্ষান করেছে।
কিন্তু সরকার জনগণের শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কর্মসূচীতে পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে গোটা নগরীকেই পুলিশের নগরীতে পরিনত করছে। পুলিশ হরতালকারীদের উপর বিনা উস্কানীতে হামলা ও লাঠিচার্জ করেছে।
যাত্রাবাড়ী ও কাফরুলসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ মিছিলের প্রস্তুতির সময় সরকারের পেটুয়া বাহিনীর কারনে বাধাগ্রস্থ হয়। কিন্তু জনগণ সরকারের সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে জামায়াত আহুত সকাল-সন্ধ্যার হরতাল কর্মসূচী সার্বিকভাবে সফল ও সার্থক করেছে।
তিনি জনগণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাধা ও পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সকল বাধা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে সকাল-সন্ধ্যার হরতাল কর্মসূচী সার্বিকভাবে সফল করায় সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানান।
এমবি





