ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত তিন বছরের ব্যবধানে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পাঁচবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। বার বার খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নেপথ্যে সরকার সমর্থকের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে বিএনপি।

কিন্তু কখনই দলীয়ভাবে কোনো ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। ক্ষমতাসীনদের প্রতি অভিযোগ তুলেই দায় সেরেছেন দলটির নেতারা।

সর্বশেষ শনিবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর দুই দফায় হামলা মুখে পড়ে। হামলায় বাদ পড়েনি সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িও। এর আগে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে তিনবার হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বার বার হামলার ঘটনাকে গণতন্ত্রের জন্য ‘অশনি সঙ্কেত’ হিসেবে দেখছেন দলের শীর্ষ নেতারা। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ সহায়তা দিতে শনিবার রাজধানীর গুলশান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন খালেদা জিয়া।

যাত্রা পথে ফেনী এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হামলার শিকার হয়েছে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। হামলায় বিএনপি নেতাকর্মীসহ গাড়ি বহরে থাকা বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

বার বার খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শুধু ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) উপরে কেন? এ দেশে কার উপরে হামলা হয়নি? যারা সরকারে আছে তাদের দলের চরিত্রই হল গুণ্ডামি করা আর পুলিশ তাদের সহযোগিতা করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা ম্যাডামের উপর হামলা নয়, এই হামলা পুরো বিএনপির উপরে। বিএনপির সকল কর্মকাণ্ডে তারা বাধা দিবে, হামলা করবে, কারণ তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ধ্যাণ-ধারণা নেই। বিএনপি কোথাও গেলেই আওয়ামী লীগ বাধা দেয়। আওয়ামী লীগের নির্দেশে বিএনপির যেকোনো কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়। ২০১৪ সালের পর তারা স্বৈরাচারি হয়ে গেছে।’ এছাড়া দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ওবায়দুল কাদের গংরা হামলা চালিয়েছে।’

তবে বিএনপির এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের দাবি বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার জন্য বিএনপিকেই দায়ী করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজের গাড়িবহরে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীদের দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। আর সেই দোষ এখন আওয়ামী লীগের ওপর চাপাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মৌলভীবাজার ছিলাম, সেখান থেকে বেগম জিয়ার সফর মনিটর করছিলাম। আমি প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দকে পরিষ্কার করে বলেছি- আমরা যদি তাকে (খালেদা জিয়া) কোনো বাধা দেই, তাহলে ক্ষতিটা আমাদেরই।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন নাকি বেগম জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করেছে। আওয়ামী লীগ কেন সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলা করতে যাবে? আমার কাছে খবর আছে- ছাত্রদল ও যুবদলের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এরপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ওপর দায় চাপানো হয়েছে।’

এছাড়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের ইস্যু খুঁজছিল। কিন্তু তারা কোনভাবেই ইস্যু পাচ্ছিল না। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণের জন্য নয়, ইস্যু খুঁজতে তারা কক্সবাজার যাচ্ছে।

এএস