জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে সরকারের দায়ের করা মামলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটির আমির মকবুল আহমাদ।
আজ (৩১ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেছেন, “সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দলীয় লোকদের দ্বারা সাক্ষ্য দেওয়ায়ে ফাঁসির দন্ড হাসিলের মাধ্যমে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে একে একে হত্যা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার এটিএম আজহারুল ইসলাম।”
মকবুল আহমাদ বলেন, “সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজহারুল ইসলামকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করে। দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করিয়েছে। একজন সাক্ষী আদালতে বলেছেন যে, তিনি ৭ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখেছেন। অপর একজন সাক্ষী বলেছেন তিনি ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখেছেন। তাদের এ বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা সম্পূর্ণ্ মিথ্যা কথা বলেছেন। ৭ বা ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখার দাবী সম্পূর্ণ্ হাস্যকর।”
তিনি বলেন, “আরেকজন সাক্ষী নিজেকে আজহার সাহেবের ক্লাসমেট দাবি করে আদালতে আজহার সাহেবের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতে উপস্থাপিত ডকুমেন্ট অনুযায়ী আজহারল ইসলাম ১৯৬৮ সালে কারমাইকেল কলেজ ত্যাগ করেন, আর কথিত সাক্ষী ১৯৭০ সালে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন। অতএব আজহারুল ইসলামকে ঐ সাক্ষী তার ক্লাসমেট হওয়ার যে দাবি করেছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা।”
জামায়াত আমির বলেন, “এইভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় গোটা মামলাটি মিথ্যায় ভরপুর। দেশের জনগন আশা করেছিল সর্বোচ্চ আদালতে আজহারুল ইসলাম ন্যায় বিচার পাবেন। কিন্তু সরকারের সাজানো মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করায় দেশের জনগণের সাথে আমরাও হতবাক ও বিস্মিত। জনগণ এ রায় প্রত্যাখ্যান করছে। সরকার দেশকে রাজনীতি ও নেতৃত্ব শূন্য করার যে চক্রান্ত শুরু করছে আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা সাজানো মামলাটি সে ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।”
মকবুল আহমাদ বলেন, “আজহারুল ইসলাম এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করবেন। আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করলে তার রিভিউ গৃহীত হবে এবং তিনি বেকসুর খালাস পাবেন ইনশাআল্লাহ।”
বিবৃতিতে আরও বলো হয়েছে, “আজহারুল ইসলাম সরকারের চরম জুলুম ও নির্যাতনের শিকার। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে গ্রেফতার করার পর রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। একজন জাতীয় নেতা হওয়ার পরও তাকে ডান্ডাবেরী পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। তার একমাত্র পুত্র সন্তানকেও গ্রেফতার করে তার উপরও নির্যাতন চালানো হয়। আজহার ২০১২ সালে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করার পর সরকার আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে তার বাড়ী অবরুদ্ধ করে রাখে। বাড়ীর চতু্র্দিকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে এক ভুতুরে পরিবেশ তৈরী করে। একজন শীর্ষনেতার বাড়ীতে সিসিটিভি বসিয়ে তাকে পর্য্বেক্ষণের নামে হয়রানী নজির বিহিন ঘটনা । তিনি দীর্ঘ ৮ বছর যাবত কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করছেন। দুর্ভাগ্যজনক যে, তিনি আজ সর্বোচ্চ আদালত থেকেও ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন। আপীল বিভাগের চারজন বিচারপতির মধ্যে তিনজন বিচারপতি একমত হলেও একজন বিচারপতি এ রায়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।”
আরও বলো হয়, “আমরা আজহারুল ইসলামকে সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলায় ফাঁসির দন্ড দিয়ে হত্যা করার সরকারী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, গণতান্ত্রিক দেশ, শান্তিকামী বিশ্ববাসী ও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি । আমরা সরকারি ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং জনাব আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে নিম্নোক্ত কর্মসূচী ঘোষণা করছি-
১ নভেম্বর: আজহারের মুক্তির জন্য দেশব্যাপী দোয়া অনুষ্ঠান
২ নভেম্বর: দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
শান্তিপূর্নভাবে উপরোক্ত কর্মসূচী সফল করার জন্য আমি সংগঠনের সকল জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।” প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





