জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাঁড়াশি অভিযানের নামে গণগ্রেপ্তার হচ্ছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।’
এর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা দোষারোপ দিয়ে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদেরকেও ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনা ওয়ারেন্টে ১২ হাজার যে গ্রেপ্তার হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। কারণ গত কয়েকদিন আগে হাইকোর্ট থেকে রায় দিয়েছে যে বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।’
শুক্রবার বারিধারার ‘জামিয়া মাদানিয়া’ মাদরাসায় এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিল হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অভিযানে গ্রেপ্তারের মধ্যে জঙ্গি খুঁজে পেয়েছে ১৩৫ জন। তাহলে ১২ হাজার মানুষ কারা? বাকীরা ধর্মপ্রাণ মানুষ, যারা ধর্ম বিশ্বাস করে, যারা ঈমান-আকিদায় বিশ্বাস করেন, যারা ধর্ম-কৃষ্টিকে সমুন্নত রাখতে চায়।’
সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চলমান সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘দেশে সম্প্রতি সময়ে যেসব গুপ্তহত্যা হয়েছে এর পেছনে অত্যন্ত সাবলীলভাবে প্রশ্ন এসে যাবে, এখন পর্যন্ত সরকার একটা হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে পারেনি কেন?’
দেশে ‘ফ্যাসিস্ট শাসন’ চলছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক দল দমন চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গুম-খুন করে নিচিহ্ন করে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা চলছে। সমস্ত দেশটাকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। বাংলাদেশকে দুঃখজনকভাবে একটা ভিন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। জনগণের মনে ভাষা বুঝে, চোখের ভাষা বুঝে তারা সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যদিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেন। যে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নুর হোসেইন কাশেমী, সহ সভাপতি মুফতি আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা মোস্তফা আজাদ, মুফতি আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা জহিরুল হক ভুঁইয়া, মাওলানা ওবায়েদুল্লাহ ফারুক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা মজিবুর রহমান পেশোয়ারীকে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন মির্জা ফখরুল।
ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন এনডিপির খোন্দকার গোলাম মূর্তাজা, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের একাংশের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, আরেক অংশের আবদুল আজিজ হাওলাদার, ইসলামী আন্দোলনের এনামুল হক আজাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম খান, মাওলানা শওকত আমীন, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, কল্যান পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, ডিএল’র সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, মো. এজাজ হোসেন প্রমুখ।
এফএফ





