খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের যে কোনো পদক্ষেপ বরং সরকারের পতনকেই তরান্বিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে দেশের সর্বস্তরের জনগণ আজ তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। সংগ্রামী জনতার ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান গণআন্দোলন দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ‘অবৈধ গদি’ রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে ফ্যাসিবাদী একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের পথে প্রধান অন্তরায় এবং গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের নেতা খালেদা জিয়াকে অবৈধ স্বৈরশাসক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে।’
বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘দলীয়করণ, নগ্নহস্তক্ষেপ ও বিচারক অভিশংসন আইন পাস করিয়ে সরকার দেশে বিচারিক নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে সমগ্র বিচার ব্যবস্থাকে বিরোধী দল ও মতকে দমনের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। তারই অংশ হিসেবে আজ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবহিত আছেন- খালেদা জিয়াকে সরকার অঘোষিতভাবে গৃহবন্দী অবস্থায় রেখেছেন। এখনো তিনি টেলিফোন, ফ্যাক্স, কেবল সংযোগ ও নেটওয়ার্কসহ সকল বৈদ্যুতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।’
সালাহউদ্দিন বলেন, এর আগে পুলিশের পাহারায় খালেদা জিয়ার ওপর হামলা করা হয়। অথচ সেই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে অপারগতার কথা আদালতকে জানানোর পরও সরকারি প্রভাবে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ হীন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসে সরকার এ জাতীয় মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে হয়রারি করার ঘৃণ্য চক্রান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
মামলা-হামলা-গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে গণআন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ২০ হাজারেরও অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে শত শত নেতাকর্মীকে হতাহত করেও গণআন্দোলনকে দমাতে না পেরে সরকার অবৈধ গদি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে।’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি’র ষষ্ঠ বার্ষিকী। ২০০৯ সালের এদিনে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নির্লিপ্ততার কারণেই ৫৭ জন চৌকষ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে সেদিন প্রাণ দিতে হয়েছিল। এই নৃশংস চক্রান্তের সঙ্গে সরকারি মহলের অনেকেই জড়িত বলে সচেতন মহল মনে করে।’
এই শোকাবহ দিনে পিলখানা ট্র্যাজেডির সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপি মুখপাত্র।
এমআর





