জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইতিমধ্যে আমরা একাধিক তহবিল পেলেও তা ব্যবহারে এখনো পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করেনি বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বুধবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) থেকে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রস্তুতিমূলক কাজের অগ্রগতিবিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এর একটি অংশ বাংলাদেশও পাবে। কারণ, জলবায়ুজনিত সমস্যায় পৃথিবীর যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

কিন্তু দেশে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির তুলনায় আমরা যেটুকু অর্থ পাব তা খুবই নগণ্য। তহবিলের চেয়ে আমাদের জলবায়ুর ক্ষতি অনেক বেশি।’

গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে সর্বোচ্চ অর্থ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

জিসিএফের নির্বাহী পরিচালক হেলা চিখিরুউ বলেন, ‘জিসিএফ হলো ১৯৪ দেশ নিয়ে গঠিত একটি মাল্টি-বিলিয়ন ফান্ড। এই ফান্ডের লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করা।’

তিনি বলেন, আইপিসির সাম্প্রতিক এক হিসাবে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে সারা বিশ্বে ২০১০-২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৩৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৭০-১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল দরকার হবে, যা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করা যাবে।

জিসিএফের কর্মপন্থা ও আশু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জিসিএফের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘জিসিএফ তহবিল গঠিত হওয়া সাপেক্ষে আগামী বছর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অর্থায়ন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’

ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন ইনটিটি (এনআইই) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিসিএফে বাংলাদেশের প্রবেশের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ন্যূনতম তিন থেকে চারটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে এনআইই হিসেবে নির্বাচন করা হবে।’

কর্মশালায় জিসিএফে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা হয়। জিসিএফ হতে তহবিল প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থায়নে বাংলাদেশের নীতি, কৌশল এবং পরিকল্পনা, জিসিএফের অর্থায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

কর্মশালায় আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক কর্মসূচি ও প্রকল্প পাইপলাইনে থাকার বিষয়ে যথাযথভাবে কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেসবাহউদ্দিন আহমেদ।

এসএইচ