আওয়ামী লীগের কোন হাইব্রিড নেতার পকেট সংগঠন নয় ওলামা লীগ, যে তার মুখের ফু'তে উড়ে যাবে। তারা বাটপাড় বললেই ওলামালীগ বাটপাড় হয়ে যাবে না।

আজ রোববার প্রেসক্লাবে 'ওলামা লীগ সম্পর্কে কতিপয় আওয়ামী নেতার বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের জবাবে' এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওলামা লীগের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, আজ যারা ওলামা লীগকে বাটপাড় সংগঠন বলছেন, আমরা মিডিয়াকে দেখিয়ে দিব যে, ওলামা লীগের সমাবেশে প্রধান অতিথি থেকে বিশেষ অতিথি থেকে আপনারা কত অনুষ্ঠানে থেকে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেদিন আপনারা ওলামা লীগের কাধে চড়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছিলেন, 'ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কোন অংশ নয়, এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে'। হানিফের এমন বক্তব্যের পরিপেক্ষিতে আজ এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ওলামা লীগ।

গত ১২ এপ্রিল ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বলছেন, ‘যারা ভুঁইফোড় নেতা তারাই আমাদের সমালোচনা করছেন। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে হানিফেরা কোথায় ছিলেন।’

মাহবুব আলম হানিফের উরেদ্দশ্যে বলা হয়, আপনি ওলামা লীগকে বাটপারের দল বলে ওলামা লীগের লাখ লাখ ওলামাদের চরম অবমাননা করে তাদের পেছনে নামাজ আদায়কারী কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে ফৌজদারী অপরাধ করেছেন।

আজ রোববার ওলামা লীগের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দলের কিছু হাইব্রিড সুবিধাভোগী নেতারা অতীত ইতিহাস ভুলে গেছেন। তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে এখন প্রয়োজন মনে করছেন না। রাজপথে নির্যাতিত ত্যাগী নেতাদেরকে মূল্যায়ন করছেন না।

আজ সুবিধাজনক সময়ে আপনারা বলছেন যে, ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কেউনা। এতে আওয়ামীলীগ বিদ্বেষীরা বলবে যে, দেখ আওয়ামী লীগ যে ইসলাম বিদ্বেষী তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। আজকে ইসলামের কথা বলাতে আওয়ামী লীগ ওলামা লীগকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চাইছে।

সাম্প্রতি পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ ও চৈত্র সংক্রান্তি পালন অনুষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে বিতর্কে আসে ওলামা লীগ। পহেলা বৈশাখ ও চৈত্র সংক্রান্তি পালন হিন্দুয়ানী এবং তা মুসলমানদের জন্য পালন করা হারাম বলে ব্যপক প্রচারণা চালায় ওলামা লীগ। এছাড়া পান্তা ইলিশের বিরুদ্ধেও প্রচারণা চালায় সংগঠনটি।

গত ১১ এপ্রিল ওলামা লীগের এ প্রচারণার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা’র এক একটি সমাবেশে মোর্চার আহবায়ক আবেদ খান বলেছিলেন, “ভূইফোঁড় সংগঠন ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে প্রতারিত করছে। এরা স্বচ্ছন্দে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া সমাবেশের ব্যানারে লেখা ছিল- 'মুখোশধারী জঙ্গি পাকিস্তানি প্রেতাত্মা আওয়ামী ওলামা লীগ নামধারী দুর্বৃত্তদের নিষিদ্ধ কর, প্রতিহত কর।'

আজ ওলামা লীগের অনুষ্ঠানে বলা হয়, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই ১৯৬৯ সালে আওয়ামী ওলামা পার্টি গঠন করেন। যা ১৯৯৬ সালে এসে যা বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগে রূপান্তরিত হয়।

উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, ওলামা লীগের সভাপতি আখতার হুসাইন বুখারী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সহ-সভাপতি মাও. আব্দুস সাত্তার, মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী, আবু বকর ছিদ্দীক্ব, মাওলানা নূর মুহম্মদ আহাদ আলী সরকার, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার।

ইআর