দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশনে (ডিসিসি) হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের (জেনারেল রি-অ্যাসেসমেন্ট) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।এছাড়া ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ মিলে প্রায় ২৫ হাজার ভবন, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতার বাইরে রয়েছে।
অথচ মিউনিসিপাল করপোরেশন ট্যাক্সেশন রুল ১৯৮৬-এর ২১ ধারায় প্রতি ৫ বছর পর-পর হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের বিধান রয়েছে। আর ডিসিসি হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন এবং সঠিক ভাবে আদায়ের উদ্যোগ নিলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৫০ গুণ এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েজন রাজস্ব কর্মকর্তা।
সূত্র মতে, গত ২৫ বছরের ব্যবধানে ডিসিসির প্রতিটি এলাকায় প্রচুর বহুতল ভবনসহ অনেক ভবন এবং স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সঠিকভাবে হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আদায় করা হলে, ডিসিসির উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমের বাজেটের ৮০ শতাংশ টাকা নিজস্ব আয় থেকেই পওয়া সম্ভব হবে।
কিন্তু গত বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন প্রশাসক জিল্লার রহমান হুট করে বাড়ির মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় আগের ধার্য করা হোল্ডিং ট্যাক্সের উপর মাত্র ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে আদায়ের নির্দেশ দেন। এর পর ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসকও তার সঙ্গ তালমিলিয়ে আগের ধার্য করা হোল্ডিং ট্যাক্সের উপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ট্যাক্স আদার নির্দেশ দেয়।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিসিসির একাধিক কর্মকর্তা টাইমনিউজবিডিকে জানান, নির্বাচিত সরকারের মেয়র এবং ওয়ার্ড কমিশনারদের ভোটের রাজনীতি ও দলীয় হীনস্বার্থের কারণে গত ১৯৮৯-৯০ অর্থ বছরের পর থেকে ডিসিসিতে হোল্ডিং ট্যাক্স পুর্নমূল্যায়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছ। গত ২৫ বছরেও জেনারেল অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ফলে ডিসিসির রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা ওই আগের ধার্য করা রেটেই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে যাচ্ছেন।
সূত্র মতে , ২০১১ সালে ডিসিসির বিভক্তির পর এই প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিং ট্যাক্স কালেকশনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। অদ্যাবধি চূড়ান্ত অর্গানোগ্রাম পাস হয়নি। জোড়া তালির খসড়া অর্গানোগ্রামের দোহাই দিয়ে মন্ত্রণালয়ের আমলাদের করুনার উপর চলছে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণের যাবতীয় কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বদলি এবং পদায়নের ক্ষেত্রে মনন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এ অনুমতি এত সহজে মিলে না।
সূত্র মতে, প্রদিনিয়ত ডিসিসিতে জনবল কমছে। চাকরির মেয়াদ শেষে অনেকে অবসরে যাচ্ছে আবার অনেকে মৃত্যু বরণ করছেন। ওই সব পদে আর লোক নিয়োগ হচ্ছে না। যার ফলে ডিসিসির রাজস্ব বিভাগের কার্যক্রম এখন বহিরাগত দালালদের (টেন্ডল) উপর নির্ভর করে আঞ্চলিক রাজস্ব কর কর্মকর্তাদের কার্যক্রম চলছে। আর এই সুযোগে আঞ্চলিক রাজস্ব কর কর্মকর্তাদের কার্যালয়গুলোতে নানা অনিয়ম, জালিয়াতি এবং লোপাটের আখড়ায় পরিনত হয়েছে।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০ হাজারের অধিক ভবন ও স্থাপনার হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্যের আবেদনের নথি বছরের পর বছর চাপা পড়ে রযেছে। এরমধ্যে ৬ হাজারের অধিক রয়েছে বহুতল ভবন। যা এখনো হোল্ডিং ট্যাক্সের বাইরে রয়েছে। এরমধ্যে অঞ্চল-৪ এ ৫ বছর যাবৎ ট্যাক্স ধার্যের (নয়াবাদি) আবেদনের নথি চাপা পড়ে রয়েছে ৪ হাজার,অঞ্চল-২ এ চাপা পড়ে রয়েছে দেড় হাজার,অঞ্চল-৩ এ চাপা পড়ে রয়েছে ২ হাজার,অঞ্চল- ৫ এ চাপা পড়ে রয়েছে ২ হাজার এবং অঞ্চল-১এ চাপা পড়ে রয়েছে দেড় হাজারের অধিক নথি।
অনুরুপ ভাবে ঢাকা দক্ষিণের ৫ টি আঞ্চলিক কর আর্যালয়ে প্রায় ১৫ হাজার ট্যাক্স ধার্যের আবেদনের নথি চাপা পড়ে রয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে তদারকির জন্য পৃথক কোনো মনিটরিং টিম গঠন করা হয়নি। শুধুমাত্র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এবং রাজস্ব কর্মকর্তা আঞ্চলিক কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে বৈঠক করেন।
এদিকে ঢাকা উত্তর বকেয়া ট্যাক্স আদায় এবং আঞ্চলিক রাজস্ব অফিসের কর্মকর্তাদের দফতরে চাপা পড়ে থাকা ট্যাক্স ধার্যের আবেদনের নথি শুননি করে নিস্পত্তি করণ, কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ৫ টি মনিটিরিং টিম রয়েছে।
গত ১৩ নভেম্বর জারি করা এক অফিস আদেশে ডিএনসিসির সচিব মো. আবু ছাইদ শেখকে কর অঞ্চল-২, উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মহসীন আলীকে অঞ্চল-৩, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. ফসি উল্লাহকে কর অঞ্চল -৫, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহবুবুর রহমানকে কর অঞ্চল-৪ এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরাত উল্লাহকে কর অঞ্চল-১ এর মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে ডিসিসির আঞ্চলিক কর কার্যালয়ের দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা এবং কর্মচারী ওইসব ভবন, বাসা বাড়ি ও স্থাপনার মালিকদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন। তারা এখনো সেই আগের ধার্য করা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে যাচ্ছেন। আর নতুন ট্যাক্সের আবেদনের নথি বছরের পর বছর চাপা দিয়ে ওইসব বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তরের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো.মমতাজ উদ্দিন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, তিনি এই পদে নতুন যোগদান করেছেন। ট্যাক্সর আবেদনের চাপা পড়া নথিগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন আঞ্চলিক নির্বার্হী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং নানা অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য মনিটরিং টিম কাজ করছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণের উপ প্রধান ই্উসুফ আলী সরদার এবং রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের জনবল সংকট রয়েছে। নয়াবাদির নথি চাপার বিষয়টি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত বোর্ডের সভা না হওয়ার কারণে এগুলো পড়ে রয়েছে। তবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বকেয়া ট্যাক্স আদাযের।
[b]ঢাকা,একে,১৯ এপ্রিল ( টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর
[/b]
রাজনীতি
২৫ বছর ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম বন্ধ
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশনে (ডিসিসি) হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের (জেনারেল রি-অ্যাসেসমেন্ট) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।এছাড়া ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ মিলে প্রায় ২৫ হাজার ভবন,





