দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিদ্যমান সংকটের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বিএনপি।

দলটি আশা করছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতেরও প্রত্যাশা প্রতিবেশি দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকুক। আর এজন্যই মোদির সফর সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরেই বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

যদিও কংগ্রেসের পতনের পর বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই বিএনপি আশা করেছিল তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে। কিন্তু বছরে এর কোনো উল্লেখযোগ্য বহি:প্রকাশ ঘটেনি। তবুও বিএনপির জন্য আশাবাদ এইটুকু কংগ্রেসের মত আওয়ামী লীগ সরকারকে খোলস ছেড়ে সমর্থন দিচ্ছে না মোদি সরকার।

বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মোদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন বিএনপি নেতা এ কাজ করছেন। যার কল্যাণেই সরকারের আগ্রহ না থাকা সত্বেও আগামী ৭ জুন মোদির সঙ্গে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ করার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়বস্তু নিয়ে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হোমওয়ার্ক শুরু করেছেন। বিএনপির কূটনৈতিক উয়িংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে মোদি-খালেদার বৈঠকে এতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনকে।

এছাড়াও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সহযোগিতা চাইতে পারে বিএনপি। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে মোদির প্রতি আহ্বানও জানানো হতে পারে।

বিএনপি মনে করে বিগত দশম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়নি। বিশ্বের প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলো ওই নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি আলোচনার মধ্য দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সংলাপের আহ্বানেও সাড়া দিচ্ছে না তারা। এ বিষয়টি মোদিকে অবহিত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশটির সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে। এছাড়া বিরোধী দলের প্রতি সরকারের দমন-পীড়ন নীতি, আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে বিরোধী নেতাকর্মী অপহরণ, গুম- হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরা হতে পারে।

দীর্ঘদিন পর ভারতের শিলংয়ে খোঁজ পাওয়া বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিষয়টিকে মানবিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে মোদির প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন খালেদা জিয়া। এছাড়া তিস্তা চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সীমান্তে শান্তিরক্ষারও আহ্বান জানানো হবে।

দলের অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ভারতবিরোধী বলে যে কোনো মহল প্রচারণা চালানো হয় তা সঠিক নয়- এ বিষয়টিও মোদিকে অবহিত করা হবে। বিএনপি কোনো দলের সঙ্গে নয়, ওই দেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন চায় সে বিষয়টিকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ভারতে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসেছেন। তাই আমরা বিশ্বাস করি, মোদি আগের কংগ্রেস সরকারের অবস্থান থেকে সরে আসবে। মোদির সরকার এদেশের জনগণের মনোভাব বুঝে তাদের আকাঙ্খা মত গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরীর বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চেীধূরী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক তাদেরও প্রত্যাশা এটিই।

মোদির আসন্ন সফরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন বলে আমরা আশা করি।

এমএইচ/এসএইচ