সিটি নির্বাচনের ধোঁয়া তুলে বিএনপির যেসব সন্ত্রাসী পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের হল রুমে ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথিন বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, বিএনপির যেসব নেতা পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। যাদের বিরুদ্ধে বোমা মেরে মানুষ মারা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ আছে তারা যদি ভেবে থাকেন সিটি নির্বাচনের ধোঁয়া তুলে আবার পুনর্বাসিত হবেন তাদেরকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে নাকি লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই। আমরা মনে করি লেভেল ফিল্ড তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনকে অবাধ নিরপেক্ষ করার জন্য যা যা করার তা তারা করবে। তারা যদি মনে করেন নির্বাচনী মাঠে কোথাও কোনো অসামাঞ্জস্যতা আছে তারা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারে। আমি শুধু এতটুকু আশ্বস্ত করতে পারি আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী; জনগণের ভোটে বিশ্বাসী। সুতরাং এ জন্য আওয়ামী লীগ সব রকমের সহযোগিতা করবে।

এ সময় বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া নিজেই নিজেকে অবরুদ্ধ করে মানষিক বিকার গ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তা না হলে ৩ মাস ধরে কোনো সুস্থ্য মানুষের পক্ষে বাসা ছেড়ে রাজনৈতিক কার্যালয়ে থাকা সম্ভব নয়। খালেদার মত মানষিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের পক্ষেই থাকা সম্ভব।

স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভুমিকার সমালোচনা করে হানিফ বলেন, বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়া বলেন জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক ছিলেন। এপ্রসঙ্গে হানিফ বলেন 'জিয়াউর রহমান কখনও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের খলনায়ক'।

৭১ সালে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেক অনুরোধে তিনি কালুর ঘাটে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে সারা জীবন তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা করেছেন। এদেশে তিনিই প্রথম স্বাধীনতা বিরোধী গংদের পুনর্বাসিত করেছিলেন, তাদেরকে মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের সভপতি মাকসুদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়মী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি মো: মাতাহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার শামসুল হক রেজা প্রমুখ।

এমএ/এমকে