প্রতিনিয়ত অভিবাসনের বিষয়টি প্রকট আকার ধারণ করছে মন্তব্য করে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামন রিপন বলেছেন অভিবাসন সমস্যায় প্রয়োজনে বিএনপি সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। কেননা আমাদের দলের মধ্যে অনেক অভিজ্ঞ মন্ত্রী আছেন।

শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এটি মানতে হবে। আর দেশে কর্মসংস্থানের অভাবেই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
 
রিপন বলেন, ‘ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কতটা খারাপ হলে মানুষ এভাবে বিদেশ পাড়ি দেয়, এসব ঘটনা তারই মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
রিপন আরো বলেন,। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পারি দিচ্ছে লোকজন। সরকারের উচিৎ একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’

সরকারের সমালোচনা করে রিপন বলেন, ‘এ বিষয়ে আগেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ ছিল। যেসব দেশে আমাদের এই লোকগুলো যাচ্ছে, ওখানে আমাদের হাইকমিশনের ভূমিকা কি? যাদের নিয়ে জিডিপি ও রিজার্ভ দেখান তাদের বিষয়টাকে গুরুত্ব দেন।’
 
বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আদালতের নির্দেশে টাস্কফোর্স গঠনে দলবাজ লোকদের না নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
 
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। দেশের বাইরের গণমাধ্যমগুলোতে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে। উচ্চ আদালত যেভাবে টাস্কফোর্স গঠন করতে বলেছেন, আমরা অবিলম্বে সেভাবেই টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানাচ্ছি। সরকারকে বলব, দলবাজ লোকদের না নিয়ে যারা মানবাধিকার বিষয় নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তাদের দিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করলে উন্নতি হবে।’
এ সময় তিনি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে বলেন, ‘সব ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব নিয়ে মানবাধিকার কমিশন থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। এটা আপনার জন্য সম্মানজনক।’
 
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্বে যে আছেন, তিনি অনেক কান্নাকাটি করেছেন তারপরেও কোনো লাভ হয়নি। আবার মাঝেমাঝে তার কথাও বিতর্কিত হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের নামকাওয়াস্ত কমিশন না রেখে পুনর্গঠন করা হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন ও যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম প্রমুখ।

এমএইচ