একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশের প্রধান হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বাংলাদেশ সফরে ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছে বিএনপি।


দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রের অন্যতম প্রবক্তা। এ দেশে যাতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, সে জন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থেকে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী যুবদল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

হান্নান শাহ বলেন, ‘ভারত দাবি করে, তাদের দেশে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম আছে। তাদের সংবিধানেও আছে, প্রয়োজনে অন্য দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে কাজ করবে তারা। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তারা (ভারত) এদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাননি। উল্টো ভোটারবিহীন নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন, যেখানে অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্য বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।’

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পানি বন্টন চুক্তি না হওয়ার পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এরা কালপিট, ভারতের প্রতি দুর্বলতা দেখায়। এই সরকারের আদি পুরুষ যারা ‘৭২ সালে ক্ষমতায় ছিলেন ভারতে গিয়ে তাদের অন্য চুক্তিতে সই করে এসেছেন, কিন্তু দেশের প্রাপ্য আনতে পারেননি।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে হান্নান শাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপির চেয়েও এগিয়ে। কারণ তারা দাবি করছে, সীমান্ত চুক্তি আওয়ামী লীগের বৈদেশিক কূটনৈতিক তৎপরতার বড় সফলতা। কিন্তু সীমান্ত চুক্তির এখনো কিছু হয়নি। ভারত শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণভাবে তাদের সংসদে এই বিল পাশ করেছে, এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবায়ন হলে দেখবেন, তারা (ভারত) কতটুকু নিলো আর আমাদের কতটুকু দিলো।’

ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিলেও তাতে বাংলাদেশের কোনো লাভ হয়নি দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ভারত ট্রানজিট সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু এর বিনিময়ে এক পয়সাও ট্যাক্স দেয়নি। অথচ ট্রানজিটের আগে বলা হয়েছিলো, ভারতকে ট্রানজিট দিলে যে ট্যাক্স পাওয়া যাবে, তাতে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে।

ভারতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে হান্নান শাহ বলেন, ভারত বাংলাদেশের ভুখন্ড ব্যবহার করবে এতে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এ দেশের রাস্তা, নদী, বন্দর ব্যবহারের বিনিময়ে ট্যাক্স দিতে হবে।

আগামীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জীবনী ও আদর্শ নেতা-কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এজন্য শুধু শাহাদৎবার্ষিকী বা জন্মবার্ষিকীতে অনুষ্ঠানের আয়োজন না করে সারা বছর তার (জিয়াউর রহমান) প্রচার- প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

এমএইচ