মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, রক্তদান কর্মসূচি, খাবার বিতরণ, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

রাজধানীতে বিজয় দিবসের বর্ণাঢ্য র‌্যালীতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: সিরাজুল ইসলাম মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের শাহাদাতের কবুলিয়াতের জন্য দোয়া করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা ও অর্থবহ করা বেশি কঠিন। মহান বিজয়কে অর্থবহ করতে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর ও পূর্ব শাখা আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালীতে অংশ নিয়ে র‌্যালী পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৮টায় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় র‌্যালীটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি মজিবুর রহমানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও পূর্বের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিবির সভাপতি বলেন, “জনগণকে অন্ধকারে রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যেসব চুক্তি করা হয়েছে সেগুলো বাতিল করতে হবে। একই সাথে ৯০% মুসলমানের দেশে জনগণকে বিভ্রান্ত করে, জনমতকে উপেক্ষা করে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।”

অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। চলমান পরিস্থিতিতে অফিস-আদালত, পরিবহনসহ সবকিছু খুলে দিলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করে, প্রয়োজনে এক্ষেত্রে বরাদ্ধ বাড়িয়ে হলেও আগামী বছরের প্রথম থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতা রক্ষায় আমাদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দেশটা আমাদের এবং দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে। বিজয়কে অর্থবহ করতে এবং দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ছাত্রশিবির অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাবে ইনশাআল্লাহ।”

সারাদেশে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে।

৫০তম বিজয় দিবস উপলক্ষে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচীগুলোর মধ্যে রায়েছে- ঢাকা মহানগর পশ্চিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, কুমিল্লা মহানগর,নারায়নগঞ্জ মহানগর, রাজশাহী মহানগর, সিলেট মহানগর, খুলনা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর, রংপুর মহানগর, বরিশাল মহানগর, ময়মনসিংহ মহানগর, দিনাজপুর শহর, টাঙ্গাইল শহর, মৌলভীবাজার শহর, পাবনা শহর, নরসিংদী শহর, যশোর শহর, গাজিপুর জেলা, চাঁদপুর জেলা, কক্সবাজার জেলা, পাবনা জেলা পশ্চিম।

তাছাড়ও মৌলভীবাজার জেলা, পাবানা জেলা পূর্ব, বরিশাল জেলা পূর্ব, বরিশাল জেলা পশ্চিম, নারায়নগঞ্জ জেলা, ভোলা জেলা, খুলনা জেলা দক্ষিণ, ঝালকাঠি জেলা, যশোর জেলা পূর্ব, নড়াইল জেলা, রাজশাহী জেলা পূর্ব, ঢাকা কলেজ, পঞ্চগড় জেলা, পটুয়াখালী শহর, কুড়িগ্রাম জেলা, চুয়াডাঙ্গা জেলা, বাগেরহাট জেলা শাখায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়।

অন্যদিকে শীতার্তদের মাঝে শীত উপকরণ বিতরণ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন বিতরণ ও জাতীয় পতাকা বিতরণ, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, ফ্রী রক্তদান কর্মসূচি ও ব্লাড গ্রুপিং, আলোচনা সভা, শিক্ষাউপকরণ বিতরণ, সাইকেল র‌্যালী, ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ কেন্দ্রঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে ছাত্রশিবির ঢাকা জেলা উত্তর, লক্ষ্মীপুর শহর, কুষ্টিয়া জেলা, চাঁদপুর জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ বিভিন্ন শাখা।প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমবি