কূটনৈতিক জোন গুলশান ও বনানী থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় সরানোর পাশাপাশি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কার্যালয় সরানো নিয়ে সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়।

দশম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সোমবার অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রণ্টের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ সময় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা চিৎকার করতে থাকেন।

জাতীয় পার্টিকে অনুগত বিরোধী দল ও দালাল আখ্যায়িত করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, গতকাল (রবিবার) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে আমার এলাকার মানুষকে নিয়ে অবস্থান করে যে কথা বলেছিলাম, এই বাড়ি থেকে বাংলাদেশে যে নাশকতা, অরাজকতা ও বোমাবাজির রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে—এটা বন্ধ না হলে ২০ ফেব্রুয়ারি আবার এই বাসার সামনে আসব। তখন আর বাসার সামনে থেকে একলা ফিরে যাব না। বাসার ভিতরে প্রবেশ করব। বাসার ভিতর থেকে অবস্থানকারীদের নিয়ে বের হয়ে আসব।

গুলশান গোলচত্বরের সোমবারের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুলশান-বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোন থেকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হোক। সেটা শুধু বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় নয়। সেখানে আরো একটি কার্যালয় আছে জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। সকল রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সরিয়ে নিতে হবে। না হয় এখানে সন্ত্রাস হতে থাকবে। এখানে নাশকতা হতে থাকবে। এর জন্য যাদের জীবন যাবে তার দায়-দায়িত্ব সকলকে নিতে হবে।

তার এই বক্তব্যের সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন ও বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে বলেন। এ নিয়ে সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিরোধী দলীয় সংসদরা আসন ছেড়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

উত্তেজিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আপনারা প্রতিবাদ করুন। আমার দাবি জানানোর অধিকার আছে।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, বিরোধী দল, অনুগত বিরোধী দল। জোড়াতালি দেওয়া দেড় টাকার বিরোধী দল। তারা আমার বক্তব্যকে বাধা দিচ্ছে। পরিষ্কার বলতে চাই। বাধা দেবেন না। দালালের দালাল, তোষ্য দালাল। এই দালালরা, বিএনএফ ও আবুল কালাম আজাদের কন্ঠ বাধা দিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না।

এ সময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী দাঁড়িয়ে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়ে বলেন, এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ না করলে আমরা ওয়াকআউট করতে বাধ্য হব।

এ সময় সংসদে সভাপতির আসনে বসে থাকা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তার অনেক কিছু আমি শুনতে পারি নাই। সেশন শেষ হওয়ার পর পুরো বক্তব্য শুনব। সেখানে রুলস অব প্রসিডিউরে আপত্তিকর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হবে।

এএইচ