আমেরিকা আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের বাহানায় বাংলাদেশে ঢুকতে চায় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। সংগঠনটির দাবি, ইরাক, সিরিয়া দখল করে পর্যায়ক্রমে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে গ্রাস করার ধারাবাহিকতায় এখন বাংলাদেশে আইএসে’ ধোয়া তুলে পশ্চিমারা আগ্রাসন চালাতে চাচ্ছে।

শনিবার সকাল ১০ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ওলামা লীগসহ ১৩টি ইসলামিক দলের মানববন্ধনে এ কথা বলা হয়।

ওলামা লীগের বক্তব্য, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে এ প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই। এছাড়া গত ৫ অক্টোবর কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাবের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছে “বাংলাদেশে আইএস-এর উত্থান ঠেকাতে যা দরকার তা আমাদের আছে।”
এসব বক্তব্যের দ্বারা সুস্পষ্ট যে, আইএস এর অজুহাতে আমেরিকা বাংলাদেশে ঢুকতে চায়। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। আইএস এর নামে বাংলাদেশে ঢুকার পথ সুগম করতে এবং দেশের ভাবমূর্তিকে ম্লান করার জন্যই আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশে সুপরিকল্পিতভাবে দেশী-বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে। সাথে সাথে আইএস-এর মুখপত্র ইহুদীবাদী ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এদেশে সন্ত্রাসী হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করানো হচ্ছে। এসবই এদেশ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র।

বক্তারা বলেন, যে আমেরিকা বাংলাদেশে আইএস আছে বলে প্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী গোষ্টী ‘আইএস’ তৈরীর অভিযোগ রয়েছে। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, তাজিকিস্তানের সাপ্তাহিক ‘ফার্জ’, বার্তা সংস্থা আইআরআইবিসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক মিডিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আইএস’ তৈরীর পেছনে মার্র্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ফাঁস হয়েছে।

বক্তারা বলেন, ‘আইএস’ মার্কিনীদের তৈরী প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনভিত্তিক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মাইক হুইটনি বলেছে, “আইএস দমনের নামে মধ্যপ্রাচ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টি, বিদ্যমান সীমান্ত নিশ্চিহ্ন করা ও ক্রীড়নক সরকার বসাতে ওবামা প্রশাসন তৎপর। আরেকটি রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের পথ সুগম করতেই মূলত পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সহযোগীরা আইএসকে সৃষ্টি করেছে।” তাছাড়া বিশ্লেষক প্যাট্রিক মার্টিনের ভাষ্য, “আইএস হলো মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের অজুহাত।”

বক্তারা বলেন, আইএস’র সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আমেরিকা চাচ্ছে বাংলাদেশকে স্বীকার করতে বাধ্য করা যে, বাংলাদেশ নিরাপত্তা বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, এই ঝুঁকি সৃষ্টি করছে আইএস এবং এই জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও জঙ্গিদের দমনের কাজে আমেরিকার সাহায্য গ্রহণ দরকার। বাংলাদেশে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি দরকার।

ইআর