আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মিগ-২৯ দুর্নীতি মামলা থেকে বাঁচার জন্য মঈন-ফখরুদ্দিনের পা ধরেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনা খুনিদের দ্বারা বেষ্টিত দাবি করে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগের পতন ঘটবে। তারা এভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।’

শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার স্থানীয় টাউন হল মাঠে ২০দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন জঙ্গি নিয়ে নাটক করছে। আলেমদের জঙ্গি বলে তারা বিদেশিদের ভয় দেখায়।’

আওয়ামী লীগ বর্জনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখল করছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ক্ষমতা আমার কাছে বড় নয়, আপনাদের দোয়ায় ৩ বার ক্ষমতায় গিয়েছি। আমি গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছি। সবার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে সকলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি জোটের আন্দোলন চলাকালে র‌্যাব-পুলিশ বাহিনী বিরোধী দলের ৩১০ জন নেতাকর্মীকে খুন করেছে, ৬৫ জনকে গুম করা হয়েছে। প্রতি মাসে অন্তত ১০০ পুলিশ অপরাধে জড়াচ্ছে। সব পুলিশ নয়,  তবে পুলিশের মধ্যে অনেক ভালো মানুষ আছে। একটি বিশেষ জেলার পুলিশ নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে।’

খালেদা জিয়া  বলেন, ‘ডিবি এখন কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ে জড়িত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আমলে রাস্তার পাশে, নদী-নালায় লাশ পাওয়া যায়।’

সবার স্বার্থে আইন মেনে কাজ করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনা এখন খুনিদের দ্বারা বেষ্টিত। তাই তারা জানে তাদের গদি না থাকলে জনগণ তাদের পিষে ফেলবে। সেই ভয়ে তারা গদি ছাড়তে চায় না। আমরা বলিনি আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দাও। আমরা বলছি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চাই। সেখানে জনগণ যাদের ভোট দিবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগের পতন ঘটবে। কারণ এভাবে তারা বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা জেলার সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির  সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস,  চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহামুদ,  যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মো. শাজাহান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর ছেলে ড. মারুফ হোসেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান  সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ , জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মজিবর রহমান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার,সাম্যবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সাইদ আহমেদসহ স্থানীয় ২০ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে এনডিপির চেয়ারম্যান  খোন্দকার গোলাম মোত্তর্জা, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মুসলিম লীগের সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বেগম সেলিমা রহমান উপস্থিত থাকলেও তাদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়।

জেআই