সরকার সারাদেশে সস্ত্রাস ও জঙ্গির উত্থান ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শন’ হলে মঙ্গলবার প্রকৌশলীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এ্যাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, তিনি বিদেশীদের আশ্বস্ত করতে চান তিনি নাকি এদেশে সন্ত্রাস দমন করবেন। তিনি সন্ত্রাস দমন করবে না। তিনি সারাদেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে এখানে জঙ্গিদের উত্থান ঘটিয়ে এই দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে দিতে চান।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাসদের প্রতি ইংগিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করে বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) দলের মধ্যে আসল সব খুনিরা রয়েছে। তাদের দলে এমন সব লোক রয়েছে, তারা অনেক অভিজ্ঞ, অনেক আগে থেকেই তারা গুম-খুন করে এসেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ যখন একসঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিলো, এরাই কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলো। বিএনপির জন্মও তখন হয়নি। এই দলের লোকজন তখন আওয়ামী লীগের লোকজনকে খুন করতো, গুম করতো। তাদের নেতার সম্পর্কে কী খারাপ ভাষায় বক্তব্য দিতো, যে খারাপ ভাষা ব্যবহার করতো, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতো, সেগুলোকে এখন তিনি ভুলে গিয়ে নিজের দলের লোকজনকে মূল্যায়ন না করে এই খুনি-অত্যাচারীদের মূল্যায়ন করছে। তার ফলেই দেশের এই অবস্থা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আসল খুনীদের আড়াল করে রেখে বা বিদেশে পার করে দিয়ে এখন বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের সকল নেতা-কর্মী এবং নিরীহ সাধারণ মানুষগুলোকে ধরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে যার মধ্যে বিএনপির ২২ শ' লোক গ্রেপ্তার করেছে। আর প্রায় ৫০ জনকে ক্রসফায়ারে তারা হত্যা করা হয়েছে।

দেশে সাঁড়াশি অভিযানের নামে একদিকে চাঁদাবাজি এবং অন্যদিকে গ্রেপ্তার বাণিজ্য চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এ্যাব-এর কারাবন্দি সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে তিন বছর ধরে বিনা বিচারের আটক করে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান খালেদা জিয়া।

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, দেশটাকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। সমস্ত জায়গায় দুর্নীতিতে ভরে গেছে। আজ দেশের মানুষ এই দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ, খুনি, অত্যাচারীদের সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। তাই এই রমজান মাসে আমরা সকলে দোয়া করবো, আল্লাহতালা এই জালিম সরকার যারা গুম-খুন করেছে, তাদের বিচার করেন, তাদের শাস্তি দেন।

এ্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেইন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হাছিন আহমেদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এজেডএম জাহিদ হোসেন, সম্মিলিতি পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আবদুল হাই শিকদার, শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়াকে নিয়ে এক টেবিলে বসে ইফতার করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এছাড়া প্রকৌশলীর মধ্যে মহসিন আলী, খন্দকার রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, শফিউল আলম তালুকদার, মিয়া মো. কাইয়ুম, আবদুল হালিম মিঞা, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জসিমউদ্দিন আহমেদসহ এ্যাব ৮ শতাধিক প্রকৗশলী ইফতারে অংশ নেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় আহমেদ আজম খান, রুহুল আলম চৌধুরী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, জহুরুল ইসলাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহ আবু জাফর, আনোয়ার হোসেইন, , সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তাজাও ইফতারে অংশ নেন।

এমআইএস