মহাজোট সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা অনেকেই ভালো নেই। মন্ত্রিত্ব হারিয়ে বেশিরভাগ নেতাই দলীয় সক্রিয় রাজনীতি থেকে আপাতত নিজেদের সরিয়ে রাখছেন।
কেউ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি, কেউ ভুগছেন হতাশায়। তার ব্যতিক্রমও আছে। মন্ত্রিপরিষদ এখনও সম্প্রসারণ হতে পারে- এমন সম্ভাবনা সামনে রেখে কয়েকজন চালিয়ে যাচ্ছেন জোর লবিং।
বিশেষ করে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত পূর্ণ মন্ত্রী না আসায় এ পদের জন্য স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রিত্ব হারিয়ে বেশি মাত্রায় হতাশ হয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। তাকে প্রকাশ্যে আগের মতো দলীয় কর্মকান্ডে দেখা যাচ্ছে না।
জাতীয় বা স্থানীয় কোনো অনুষ্ঠানে দেখা মিলছে না ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, শামসুল হক টুকু, আবদুল লতিফ বিশ্বাস ও অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনেরও।
নবম জাতীয় সংসদের মন্ত্রী ছিলেন অথচ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি- এ তালিকায় আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, আইসিটিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন,সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু ও আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বাদ পড়েন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. মজিবুর রহমান ফকির, শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আবদুল হাই।
তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যগত কারণে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. মজিবুর রহমান ফকির দলীয় রাজনীতিতে আগের মতো সময় দিচ্ছেন না। তাদের সিংহভাগ সময় কাটছে বাসায়। সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বক্তৃতা করে জানান দিচ্ছেন নিজের উপস্থিতি।
তবে প্রায় সবার চোখের আড়ালে চলে গেছেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক আইসিটিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন পুরনো আইন পেশায় ফিরে যাওয়ার। এর বাইরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রসারিত হলে যাতে ঠাঁই পান সে জন্য গণভবনে ধরনা দিচ্ছেন নিয়মিত।
মান্নান খান সংসদ সদস্য পদেও জয়ী হতে পারেননি। আর নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় তার কর্মীদের হাতে নিহত হন প্রতিপক্ষের পাঁচ সমর্থক। নিজ এলাকায় ও একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধানের কারণেও তিনি রয়েছেন পেরেশানিতে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত শুরু করায় বিপাকে পড়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক। তিনি এখন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যতিব্যস্ত আছেন।
নরসিংদীর জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডসহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের রোষে পড়েন সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। এ দফায় মন্ত্রিত্ব হারিয়ে তিনি এখন দিশাহীন। এলাকায়ও তার অবস্থা ভালো নয়। সময় কাটছে ঢাকার বাসাতেই।
সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াও কম পেরেশানিতে নেই। নিজ দল বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে গুজব রটেছে। আম-ছালা দুটোই যাওয়ার অবস্থা তার।
সাবেক উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমদ শারীরিকভাবে ভালো নেই। তিনি অসুস্থ। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বাসায়ই পার করছেন বেশিরভাগ সময়। আরেক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ধানমন্ডির মুজিবুন্নেসা আই ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখছেন। এর পাশাপাশি একটি বিদেশি হাসপাতালের স্থানীয় উপদেষ্টা হিসেবে সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এই উপদেষ্টা।(সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ)
[b]ঢাকা, মঙ্গলবার ৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
রাজনীতি
ভালো নেই সাবেক মন্ত্রী-উপদেষ্টারা
মহাজোট সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা অনেকেই ভালো নেই। মন্ত্রিত্ব হারিয়ে বেশিরভাগ নেতাই দলীয় সক্রিয় রাজনীতি থেকে আপাতত নিজেদের সরিয়ে রাখছেন। কেউ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি, কেউ ভুগছেন হতাশায়।





