বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে খালেদা জিয়াসহ সকল বিএনপি নেতা কর্মীর মুক্তি দাবি এবং বাংলাদেশে গুম, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। একই সাথে অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সুদৃঢ় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে অতিদ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে তার সুচিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত তার আদেশে বলেন, উভয় পক্ষে বক্তব্যে এটা প্রতীয়মাণ হয় যে, খালেদা জিয়ার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিএসএমএমইউ, সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। আর এ আদেশ স্পেশাল ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মেডিক্যাল বোর্ড গঠন সম্পর্কে আদালতের নির্দেশ দেন আগে সরকার কর্তৃক যে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল সেখানকার তিন সদস্য যারা সরকারপন্থী চিকিৎসকের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্য তাদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিরপেক্ষ তিনজন চিকিৎসক নিয়ে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করতে, যারা স্বাচিপ বা বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ড্যাবের) বর্তমান বা প্রাক্তর সদস্য হতে পারবেন না।

আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অপরদিকে সরকার পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন।

এরপর থেকে তিনি পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন। বন্দী অবস্থায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে খালেদা জিয়া মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়, সেই সাথে তার সুচিকিৎসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তেমন উদ্যোগ না দেখতে পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয় বিএনপি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ, আবুল কালাম আজাদ, গোলাম রব্বানী, খসরুজ্জামান খসরু, মিসবাউজ্জামান সুহেল, যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিপুল, ছাত্র সম্পাদক আবু নাছের শেখ (যুক্তরাজ্য বিএনপি), সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সোহেল (ইস্ট লন্ডন বিএনপি), প্রচার সম্পাদক জুল আফরোজ মজুমদার (সেচ্ছাসেবক দল), কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম রিবলু, সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মিরাজ, ছাত্রনেতা ইমতিয়াজ এনাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক (নিউহাম বিএনপি) মো: মাকসুদুর রহমান, সহ কোষাধ্যক্ষ আবু নোমান (যুবদল), সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শিবলী শাহীদ খুশনবীশ (নিউহাম বিএনপি), প্রচার সম্পাদক মোঃ হাসনাইন (ইস্ট লন্ডন বিএনপি) সহ আরো অনেকে। এএস