গত ৯ অক্টোবর রাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠক থেকে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার ঘটনার প্রতিবাদ ও তাদের মুক্তির দাবিতে দলের আহুত ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি সফল করতে ছাত্রজনতার প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ (বুধবার) গণমাধ্যমে পাঠান এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, “সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে চরম স্বৈরাচারী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের এ ধরনের অন্যায়, অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আচরণের নিন্দা জানানোর কোন ভাষা নেই।”
তারা বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী নিয়মতান্ত্রিক আইনানুগ বৈধ রাজনৈতিক দল। যাদের জন্য এদেশের মানুষের বিপুল জনসমর্থন, সম্পৃক্ততা ও সহমর্মিতা রয়েছে। এ দল থেকে বহু নেতা পার্লামেন্টে দীর্ঘ দিন জনপ্রতিনিধিত্ব করেছে। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রতিনিধিত্ব করছে। অথচ সরকার দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর যাবত জামায়াতে ইসলামীকে প্রকাশ্যে কোন সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে না দিয়ে আইনগত এবং সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হরণ করেই চলেছে। রাষ্ট্রীয় ভাবে জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়ণ চালাচ্ছে।
সরকার জামায়াতসহ বিরোধী দলের নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার, গুম ও হত্যা করছে। সর্বশেষ জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে সাজানো মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে মানবাধিকারের চরম লংঘন করেছে। কোন সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের অন্যায় ও অমানবিক আচরণ কল্পনাও করা যায় না। ”
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি বলেন, “সরকার দেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দিচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় ক্যাডারের ন্যায় ব্যবহার করে বিরোধীমতের নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচিতে আমরা একাত্বতা ঘোষনা করছি। একই সাথে দেশ, গণতন্ত্র, ইসলাম ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় যার যার অবস্থানে থেকে আগামী কালের সর্বাত্বক হরতাল সফল করতে আমরা দেশের আপামর ছাত্রজনতা ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। ”
নেতৃবৃন্দ হরতাল সফল করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর জন্য শিবিরের মহানগরী, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, উপজেলা,শাখা উপশাখাসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আহবান জানান।বিজ্ঞপ্তি।
এমবি





