জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে কত বড় নেতা বা কোন পর্যায়ের নেতা- জামায়াতে ইসলামীর কাছে সেটি বিবেচ্য নয়। দলটি বিবেচনা করে, একজন ব্যক্তি নৈতিকতা ও আদর্শের ওপর অটল আছেন কি না। কেউ যদি নৈতিকতা বা আদর্শ থেকে এক চুল পরিমাণও বিচ্যুত হন, তবে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের চকবাজার-বংশাল জোনের বাছাইকৃত কর্মীদের শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত অগ্রসর কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বেশি আস্থাশীল। সে কারণে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মীর সামান্য ত্রুটিও জনগণ সহজে মেনে নেয় না। এমনকি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোও এসব বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। তবে অতিরঞ্জিত সমালোচনা কারও জন্যই কল্যাণকর নয়। অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজার আগে নিজের দিকে তাকানোরও আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এবং চকবাজার-বংশাল জোন পরিচালক দেলাওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক, মহানগরীর মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যক্ষ এস. এম. আহসান উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদের সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, মাওলানা মোশাররফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম মিয়াজী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চকবাজার-বংশাল জোন টিমের সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাশেম এবং বংশাল দক্ষিণ থানা আমীর মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে মহানগরীর মজলিসে শুরার সদস্য মাওলানা আনিছুর রহমান, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, রফিকুল ইসলাম সিকদার, আবুল হোসাইন রাজন, রিয়াদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুস সবুর ফকির বলেন, খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা মুমিনদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বেই ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শামিল হতে পেরেছেন, তারা সৌভাগ্যবান। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী এবং প্রচলিত রাজনৈতিক দলের কর্মীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা নিঃস্বার্থভাবে মাল ও জান কোরবানি করতে প্রস্তুত থাকেন, অথচ প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার অনেক কর্মী লুটপাট ও ব্যক্তিস্বার্থে ব্যস্ত থাকেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দেশের মানুষ প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি ও আদর্শ দেখেছে। এখন তারা সেসব দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে আগ্রহী হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ, সৎ ও আদর্শবান নেতৃত্ব।
তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের আরও বেশি সজাগ, সচেতন ও দায়িত্বশীল থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।