নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা প্রকাশের পর সরকার তাড়াহুড়ো করে সম্প্রচার নীতিমালা প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘সম্প্রচার নীতিমালা আইন ও সম্প্রচার কমিশন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
আবুল মকসুদ বলেন, ‘এতোদিন ধরে বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। কোনো নীতিমালা ছিল না। নারায়ণগঞ্জের ঘটনা প্রকাশের পর সরকার তাড়াহুড়ো করে সম্প্রচার নীতিমালা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে যেভাবে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে তাতে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ড্রেস কোড সরকার নির্ধারণ করে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রচার নীতিমালার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের হলুদ জামা ও কলামিস্টদের হাফ প্যান্ট পরতে হবে। নীতিমালা ছাড়া আমাদের গণমাধ্যম এতোদিন অনেক ভাল করেছে। কোথাও বলা যায় না তারা খারাপ করেছে।
সৈয়দ মকসুদ বলেন, ‘সাংবাদিকরা নীতিমালা ছাড়া ভাল অবস্থানে পৌঁছেছে শুধু তাদের মেধা দিয়ে। বর্তমান রাজনীতির মধ্য দিয়ে যদি এ নীতিমালা আসে তাহলে পরবর্তীতে ড্রেস কোড সাংবাদিকদের জন্য করা হবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে।’
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশ নিয়ে এতোদিন পর্যন্ত সরকারের কোনো সমস্যা ছিল না। যখন নারায়ণগঞ্জের ঘটনা সম্পূর্ণ প্রকাশ হল তখন তাদের নীতিমালা করার ব্যপারে মাথা ব্যথা হল। মিডিয়া যদি সাত খুনের ঘটনা এভাবে প্রকাশ না করত তাহলে রযারেবের কর্মকর্তাদের এ ধরনের মনোভাব সাধারণ জনগণ বুঝত না। আর আদালত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিত না। যা কিনা প্রধানমন্ত্রীকে অখুশি করেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে আটটি সরকারি কমিশন রয়েছে। তাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলার নেই। তাই নীতিমালা কমিশন কি করা হবে তা বর্তমানে পরিষ্কার। কমিশন কোনো আইন দিতে পারবে না। তারা পারবে শুধু আইন প্রস্তাব করতে। আর তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার নীতিমালার সকল বিষয় নিয়ে কাজ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ বরাবরই উদাসীন। পত্রিকায় যদি নারী নির্যাতনে পুলিশ উদাস এ সংবাদ প্রকাশ না হয় তাহলে দেশের আইন ব্যবস্থার কি পরিণতি হবে তা বুঝতে আমাদের বাকি নেই।’
সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমান, লেখক মো. জাহাঙ্গীর, প্রবীণ সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ।
ঢাকা, ২১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





