চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা। যুক্তরাজ্য যাওয়ার সময় দলীয় সূত্র জানিয়েছিল, তিনি চিকিৎসা শেষে অক্টোবরের প্রথম দিকেই দেশে ফিরবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার দেশে ফেরার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।
এমনকি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য-বিবৃতিও পাওয়া যায়নি। একারণে তার দেশে ফেরা নিয়ে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। চলছে নানান জল্পনা-কল্পনাও।
দলটির মূখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন- দলের চেয়ারপারসন চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার দুটি চোখে অপারেশন করা লাগবে। এই প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। একারণে তার দেশে ফেরার বিষয়টি পিছিয়ে গেছে। তবে চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসবেন বলেও জানান রিপন।
এদিকে আগামী ৮ অক্টোবর খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন বলে দেশের গণমাধ্যমে প্রচারণা রয়েছে। যদিও এমন খবরের সত্যতা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি।
লন্ডনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় পৌঁছানোর টিকিট নির্ধারিত ছিল।
কিন্তু চিকিৎসা শেষ না হওয়ার কারণে ফেরার সময় পেছানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন তিনি তা চিকিৎসকের পরামর্শের ওপরই নির্ভর করছে।
ওই সূত্রের মতে, খালেদা জিয়ার বাম চোখে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে গত বুধবার। ডান চোখেও অপারেশন করাতে হবে। চলতি সপ্তাহেই তা করা হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা দিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী দুই দফায় অপারেশন শেষ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগবে।
তবে লন্ডন বিএনপির একটি সূত্র জানায়, চোখের চিকিৎসার পর খালেদা জিয়ার পায়ের চিকিৎসা শুরু হবে। এতে আরো সময় লাগবে। এ কারণে দেশে ফিরতে বেশ বিলম্ব হবে। ফলে ফেরার তারিখ চূড়ান্ত করা হচ্ছে না। বরং তার ফিরতি বিমান টিকেট বাতিল করা হয়েছে। চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ করতে আরো সময় লাগবে, চিকিৎসকদের এ মতামত পাওয়ার পরই দেশে ফেরার বিলম্বের কথা জানানো হয়।
এসব বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু টাইমনিউজবিডিকে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন মূলত চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন। চিকিৎসা শেষেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন। এনিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির কোনো অবকাশ নেই।
তিনি আরও বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) দেশে ফেরাটা মূলত চিকিৎসকের পরামর্শের ওপরই নির্ভর করছে। তবে আমরা আশা করছি তিনি আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরে আসবেন।
খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান টাইমনিউজবিডিকে জানান, ম্যাডামের দেশে ফেরার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। চিকিৎসা সম্পন্ন করেই তিনি দেশে ফিরবেন।
তবে ৮ অক্টোবর ফেরার সময়সূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা ঠিক নয়। এবিষয়ে লন্ডন থেকে এমন কোনো তারিখ আমাদেরকে জানানো হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশে আসার সময়সূচির বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য আসলে তা যথাসময়ে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেয়া হবে।
তবে দলটির দ্বিতীয় সারির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে বলেছেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) দেশে ফেরা নিয়ে তারা চিন্তিত। শাসকদল কূট-কৌশল করে খালেদা জিয়াকে দেশে ফিরতে বাধা দিতে পারে এমন দুশ্চিন্তাও তাদের রয়েছে।
এমনকি তারা মনে করছেন, এ বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য-চিকিৎসকের পরামর্শেই খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন। এনিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। কারণ তারা মনে করছেন, একই বক্তব্য দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কেও দেয়া হয়। উনি (তারেক) চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। চিকিৎসা শেষ হলে দেশে ফিরবেন।
অন্যদিকে গত রমজান মাসে পবিত্র ওমরা পালন করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব না যাওয়ায় গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। দেশে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন দেশ ত্যাগ করার আগে নানা সমীকরণ কষেছেন।
পরবর্তীদের আগস্ট মাসে লন্ডনে সফরে যাবেন এরকম ঘোষণার পরও না যাওয়ার কারণে গুঞ্জনটি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দেশে ফেরার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো বিএনপি প্রধান লন্ডনে যাবেন। আর এখন লন্ডন থেকে দেশে ফেরার সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়ায় আবারও সেই গুঞ্জন আর বিভ্রান্তি শোনা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, চোখের ও পায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন যান খালেদা জিয়া। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আট বছর পর একইসঙ্গে লন্ডনে এবং প্রথমবারের মতো বিদেশে ঈদ পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর লন্ডনে খালেদার এটি দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পথে ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন।
এমএইচ/ এআর





