দিনাজপুরে ইতালীয় নাগরিক পিয়েরো পিচমের ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি।
বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এ ঘটনায় নিন্দা ও ও উদ্বেগ জানান।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “নতুন করে এ ধরনের হামলার ঘটনায় আবারো উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কালক্ষেপণ বা দোষারোপের রাজনীতি না করে সরকারের উচিত প্রকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা।”
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল পৌণে ৮টার দিকে দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর এলাকায় বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন ইতালীয় নাগরিক পিয়েরো পিচম (৫০)। তিনি এখন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পিয়েরো পিচম (৫০) একজন চিকিৎসক এবং ধর্মযাজক। তিনি ৩৫ বছর ধরে স্থানীয় মিশন হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।
রিপন আরও অভিযোগ করেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে বৈষম্য রয়েছে। কেননা ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অস্থিরতায় ভুগছে। বারবার নানা ধরনের পরিবর্তন এনে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিজেদের অনুকূলে নেয়ার অপচেষ্টায় প্রস্তাবিত আইনটি জগাখিচুরীতে পরিণত হয়েছে। তারা একদিকে স্থানীয় সরকারে পৌর সভায় মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ও মনোনয়নের বিধান রেখে বাকি কাউন্সিলর ও মেম্বার পদে অরাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রেখে একটি কিম্ভুতকিমাকার ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছে যা পৃথিবীর কোনো দেশে নজীর নেই।’
রিপন বলেন, ‘শুরু থেকেই এ সরকারের উদ্দেশ্য ছিল যেকোনোভাবেই হোক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কব্জা করা। সে লক্ষ্যেই সমাজের মানসিক প্রস্তুতি ছাড়াই এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ তথা নির্বাচন কমিশনের আজ্ঞাবাহী অবস্থায় নিপতিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্ষমতা অর্জনের পূর্বে দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত শেষমেষ হালে পানি পাচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিস্ময়ের ব্যাপার হলো কোনো আইন সংশোধন কিংবা প্রণয়নে অথবা যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হওয়ার প্রক্রিয়ায়-মন্ত্রীদের যে হোমওয়ার্ক থাকা প্রয়োজন, বর্তমান বিনাভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে তার অভাব প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় মনোয়নে ও দলীয় প্রতীকে হওয়ায় সিদ্ধান্ত তারা নিলেও- হাজার হাজার প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে বাছাই প্রক্রিয়া কোনো রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। এসব সক্ষমতা না থাকা সত্বেও তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রসর হন শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচনের দাবিকে পাশ কাটানোর জন্য এবং পূর্বের মতো গায়ের জোরে মেয়র, চেয়ারম্যানের পদগুলো করায়ত্ব করে বিদেশিদের দেখানোর জন্য।’
সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে রিপন বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে তার নীতি হিসেবে মেনে চলে। কিন্তু এ সরকারের আমলে এ ব্যাপারে জনগণের অভিজ্ঞতা মোটেই ভাল নয়। অপকৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট কর্মীদের সারাদেশে গ্রেফতার করে কারাগারগুলোতে মানবিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। আমরা সরকারের এধরণের দমন-নিপীড়ণ নীতির তীব্র প্রতিবাদ করছি।’
রিপন বলেন, ‘এছাড়াও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নে নির্বাচনের জন্য যে আইন সংশোধন করা হচ্ছে তাতে এখনো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাগুলো বহাল রাখা হয়েছে। সকল ধরনের অসমাঞ্জস্যতা ও বৈষম্য দুর করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা যাতে আরো শক্তিশালী করা যায় সেব্যাপারে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। আর তা করা না হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরো ভংগুর হয়ে পড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে, বিএনপি নেতা গোলাম আকবর খন্দকার, আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম, শাম্মী আক্তার, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ





