বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, দেশে যে সংঙ্কটপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে, তা থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নাই। এই ধরনের পরিস্থিতিতে যারা জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা দেশ ও জাতির বন্ধু হতে পারে না। এ অবস্থায় অর্থবহ জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণও এখন সেই ঐক্যের প্রত্যাশায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ‘র ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখছিলেন।
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অস্থিতিশীল অবস্থা চলছে তা থেকে মুক্তি পেতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় দেশ-জাতিকে কঠিন বিপর্য়ের মুখোমুখি হতে হবে। যার দায় থেকে রাজনীতিবিদরা মুক্তি পাবে না। দেশের জন্য জীবন দিতে যাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু ছিল না, তারা এমন বাংলাদেশ চায়নি। এখন জনগণকে ভীত হয়ে বসে থাকলে চলবে না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া‘র সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় দলের সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম.এম. আমিনুর রহমান, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এস.এম.এম শামিম, ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢা) মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আনছার রহমান শিকদার, যুব নেতা জিল্লুর রহমান পলাশ, নারী নেত্রী নারী নেত্রী বাসন্তি বরুয়া বাবলী প্রমুখ।
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী পদ বা কোনো কিছু পাওয়ার রাজনীতি করেননি। তিনি দেশ-জাতী, মেহনতী ও মজলুম মানুষের মুক্তির জন্য রাজনীতি করেছেন। তার অনুসারী হয়ে আমরা এমন ধরনের আচরণ করতে পারি না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের সত্যিকারের ইতিহাস আজকের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে না। দেশে এর আগে অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণ এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছে। বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এবারও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নয় জনতার বিজয় অনিবার্য।
সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেছেন, গুলশান-শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে এধরনের ঘটনা এদেশের মানুষ মনে প্রাণে চায় না। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। বাংলাদেশকে জঙ্গি কবলিত রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি দিয়ে দেশে ক্রমান্বয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে।
এম.এম. আমিনুর রহমান বলেছেন, জঙ্গিবাদি সন্ত্রাস মোকাবেলার কথা বলে বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদী শক্তির অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ ক্রমে জোরদার করা হচ্ছে। কিন্তু এদেশের মানুষ কখনও বাংলাদেশকে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া হতে দেবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুনের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যাহত থাকলে জঙ্গিবাদি সন্ত্রাস আরো উৎসাহিতই হবে।’





