খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জেলখানায় জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার বাধাগ্রস্তের অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, লন্ডনে বসে তার মুখে আইনের শাসনের কথা বলা বড় তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। তার মুখে আইনের শাসন মানাই না।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার নেতার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিলের পর সাংবাদিকের একথা বলেন জেল হত্যাকাণ্ডের শিকার এম মনসুর আলীর এই ছেলে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর গ্রেপ্তার করা হয় মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে।
একই বছরের ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় এই চার নেতাকে। এরপর থেকে জাতীয় কলঙ্কময় এই দিনটি ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
সকালে নাসিমসহ জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেন।
নাসিম বলেন, “মানুষ যখন কারাবন্দি থাকেন, তখন তো নিরাপদ থাকেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয় তা দুনিয়ার নজিরবিহীন ঘটনা।”
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমেদ ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের বিচার না করার জন্য পরবর্তী সরকারগুলোর সমালোচনাও আসে নাসিমের কথায়।
“তারপর এরশাদ সাহেব ক্ষমতা ছিলেন, খালেদা জিয়া একাধিক বার ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু কোনো সময় এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেননি বরং সেই কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ লালন করেছেন।”
নাসিম বলেন, “সেই আইনের বেষ্টনীতে এই কিলারদেরকে- বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে, বিদেশে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আইনে শাসন বলতে যা বুঝায়, ন্যূনতম আইনের শাসনের প্রতি তারা শ্রদ্ধা দেখায়নি।”
তিনি বলেন, “তারা যখন আজকে আইনে শাসনের কথা বলেন এবং সুদূর লন্ডনে বসে খালেদা জিয়া আইনের শাসনের কথা বলেন- তখন এর চাইতে বড় তামাশা আর কিছু হতে পারে না।”
আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা আসার কারণে বঙ্গবন্ধু হত্যার ও পিতৃহত্যার বিচার পেয়েছেন বলেও এ সময় জানান মনসুরপুত্র নাসিম।
জেল হত্যা মামলার রায়ে নিম্ন আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। এরপর হাই কোর্ট ফাঁসির দুই আসামিসহ ছয়জনকে খালাস দিলে সরকার আপিল করে। আপিলের রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যাদের দুজনই পলাতক।
নাসিম বলেন, “আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার হয়ে গেছে। পলাতক আসামিদের আমরা এখনও আনতে পারিনি। তাদেরকে আনার পর নিশ্চয়ই দণ্ড কার্যকর হবে।”
নাসিমের সঙ্গে সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।
এমআর





