স্বাধীনতা বিরোধীরাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্টে জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রাতের অন্ধকারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে বলে মনে করছে বিএনপি ও এর জোটের শরিক দলের নেতারা।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে আজ আমি বলতে চাই- জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে দেশ গড়া ও দেশের আধুনিকায়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। তার সমাধিকে যারা অসম্মান করেছে, তাদের তীব্র ঘৃণা জানাই। হামলাকারীরা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, বিপক্ষ শক্তি।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ ভবনের সংরক্ষিত জায়গায় এ ঘটনাকে সহজভাবে নিলে চলবে না। যারা মাজারের ১১টি টাইলস ভেঙেছে, জিয়ার সমাধিতে আক্রমণ করেছে, তারা দেশের সমস্ত মুক্তিযোদ্ধারের হৃদয়ে আক্রমণ করেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এ ধরনের হামলা দূরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্র। ঘটনা চক্রে এর আগেও আমরা জিয়াউর রহমানের সমাধি নিয়ে একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র দেখেছি।’

তিনি সরকারকে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। প্রশ্ন রেখে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ‘সংরক্ষিত স্থানে যারা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা চালালো, তারা এত সাহস পেল কোথায়?’

এ সময় ২০-দলীয় জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক) বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মাজারে আক্রমণ সব মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ। এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া ও হিংসাত্মক রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে।’

এ সময় সদ্য শেষ হওয়া সিটি করপোরেশন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও কেন এই হামলা হলো? সরকারের কাছে ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ ইমরান খালেদ প্রিন্স প্রমুখ।

এদিকে, দুপুরে গণপূর্ত বিভাগ থেকে দুইজন স্টাফ এসে মাজারের ভাঙচুর করা পাথর ফেভিকল আটা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে চলে যান। তারা যাওয়ার কিছু সময় পর সেগুলো আবারো খসে পড়ে।

বুধবার গভীর রাতে জিয়ার মাজারে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করে। এ সময় তারা জিয়ার কবরের আগে রাউন্ড দেয়া অন্তত পাঁচটি লম্বা পাথর খুলে ফেলে এবং আরো পাঁচটি পাথর অর্ধেক ভেঙে রেখে যায়।

জেআই