বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের সকল নির্যাতন উপেক্ষা করে ২০ দল অটুট আছে এবং থাকবে। ‘২০ দল নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চায়।’
রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার ২০ দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জোটের শরিক নেতাদের জোট নেত্রী খালেদা জিয়া বৈঠকের ১২ ঘন্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সময় জোটের শীর্ষ নেতারা তার পাশে ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দীর্ঘদিন পর জোটের শরিক দলগুলোর প্রধানদের নিয়ে বৈঠকে করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। গত বছরের ২২ নভেম্বরের পর ওই বৈঠকটি ছিল চলতি বছরের প্রথম বৈঠক। প্রায় দুই ঘন্টার বেশি সময় স্থায়ী ওই বৈঠকে জোট অটুট রাখা, তার লন্ডন সফর, পুলিশের ভুমিকা, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নিবার্চনের বিয়য়ে সরকারের ওপর চাপসৃষ্টির কর্মকৌশলের নানা প্রস্তাব, জোটের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, কারাবন্দি নেতৃবৃন্দের মুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, সরকারের সকল নির্যাতন উপেক্ষা করে ২০ দল অটুট আছে এবং থাকবে। ২০ দলের নেতারা যখন প্রয়োজন মনে করে তখন সভা আহবান করা হয়। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন গুলশান অফিসে অবরুদ্ধ ও নেতাকর্মীরা কারাগারে থাকায় ২০ দলের নিয়মিত বৈঠক হয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙ্গন বা এই ধরনের কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নি বলেও জানান বিনেপির এই নেতা।
‘গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধারে’ আন্দোলন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন করতে হয় অস্ত্রধারী সরকার বা অস্ত্রধারী লোকদের সঙ্গে। বিএনপি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে বিশ্বাস করেনা। সেজন্য বারবার জনগনের কাছে আসি। আমাদের আন্দোলন সফলের দ্বারপ্রান্তে। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের জনগণ নির্দলীয় সরকারের অবাধ, সুষ্ঠ ও সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। কিন্ত সরকারে সীমাহীন দমন-পীড়ন চালিয়ে জনগণের আকাঙ্খাতে ব্যর্থ করে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। ২০ দল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংগ্রাম অব্যহত থাকবে।
নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারি দলের লোকেরা সব কিছু দখল করে নিচ্ছে। খাল বিল, নদী-নালা, হাট-বাজার , হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর, জমি ও ব্যবসা দখল করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রাণগোপাল দত্ত এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রানাগুপ্তের নেতৃত্বে এসব দখলধারী চলছে বলে অভিযোগ তার।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। গুম-খুন, সন্ত্রাস, দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণকে হয়রানি গ্রেফতার বানিজ্য ক্রমাগত বেড়ে চলছে। শিশু হত্যা ও নারী নির্যাতন এমন ভয়াবহ আকার ধারন করছে যে, মনে হচ্ছে দেশে কোন সরকার নেই।
‘নির্বাচিত সরকার’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন দাবি জানান নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু সরকার সীমাহীন দমন-নিপীড়ন চালিয়ে জনগণের আকাঙ্খাকে ব্যর্থ করে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় নির্যাতন-নিপীড়ন করে জনগণের ন্যয়সঙ্গত আকাঙ্খা পূরনের আন্দোলন ব্যর্থ করা যায় না।
বৃহস্পতিবারের জোটের বৈঠকে বিএনপি জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান নজরুল ইসলাম। ভবিষ্যতে এদের অবদানকে মনে রেখে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের আগে শরিক দলগুলো মহাসচিবদের নিয়ে বৈঠক করেন নজরুল ইসলাম। সেখানে বুধবারের রাতের বৈঠকে আলোচ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদের সদস্য আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তাফা জামাল হায়দার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল মতিন সাঈদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের জুলফিগার বাবুল চৌধুরী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব বাবুরাম শাহা, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)ভারপাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ওয়াক্কাস, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এএইচ





