বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমি দেশের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা সবাই ঐক্য সৃষ্টি করি। জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। গণঐক্য তৈরি করে এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে নিরপেক্ষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।”

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন “সরকারের উন্নয়ন, জনকল্যাণ কাজ প্রশ্নবিদ্ধ করা বিএনপির কাজ”।

এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “উনার ভাই (কাদের মির্জা) উনার উত্তর দিয়েছেন, আমাকে দিতে হবে না। উনার ভাই, তিনিও আওয়ামী লীগ করেন, কাদের মির্জা সাহেব, উনি বলে দিচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগ কী করছে, তাঁর ভাই কী করছেন।”

তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্য আমাদের, রাজনীতি করেন যে বন্ধুরা, তাঁরা নিজের দিকে একবারও তাকান না। আয়নার দিকে তাকাতে বলেন। আমি সাধারণ সম্পাদক সাহেবকে অনুরোধ করব, আয়নার দিকে তাকান। বুকে হাত দেন, নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করেন যে আপনারা কী করছেন। আপনারা এই জাতির সব আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধুলিস্যাৎ করে দিচ্ছেন।”

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, “উন্নয়ন আমরা চাই, কিন্তু সেই উন্নয়ন মানে কি মানুষের পকেট কেটে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া? আজ মেগা লুটপাট হচ্ছে।” করোনার টিকা নিয়েও সরকার লুটপাটের আশ্রয় নিচ্ছে উল্লেখ করে বেসরকারি খাতে আনারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন আর সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তাও করে না। তাদের একমাত্র চিন্তা, তারা কীভাবে ধনী হবে, তারা কীভাবে বিদেশে বাড়ি করবে, তারা কীভাবে বিদেশে টাকা পাচার করবে। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন চাই, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং এখনো সময় আছে।”

পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য এখন পর্যন্ত পৌরসভার নির্বাচন যতগুলো দেখলাম, প্রায় বেশির ভাগ নির্বাচনে দেখলাম সরকার একইভাবে-২০১৮ সালে নির্বাচনে জোর করে আগের রাতেই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করে নিয়ে গেছে, একই কায়দায় তারা পৌরসভাগুলোতে ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যাচ্ছে।”

সিরাজগঞ্জ শহর ও উল্লাপাড়ায় বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব।

এমবি