বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে মাত্র ১০ দশমিক ৭ ভাগ। যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। শিক্ষায় মূল সমস্যা অর্থে নয়, প্রশাসনে। শিক্ষানীতিতে প্রশাসনের কার্যপদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবুও শিক্ষা প্রশাসন পরিবর্তন হচ্ছে না। যে কারণে বৈষম্য থেকে গেছে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ও জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট যৌথভাবে আয়োজিত ‘২০১৫-১৬ প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ: প্রত্যাশা ও শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন’শীর্ষক এক মত বিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পয়নিসকাশন নিয়ে বার বার অর্থমন্ত্রী কথা বলেছেন। কিন্তু তার এই কথা নীতিতে আছে বাস্তবায়নে নেই।
তিনি পঞ্চম শ্রেণীর পিএসসি পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষানীতিতে পিএসসি পরীক্ষার কথা কোথাও উল্লেখ নেই। বিশ্বের কোন দেশে এমন কোন ধরনের পরীক্ষাও নেয়া হয় না।
ড. কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, পিএসসি পরীক্ষা বাচ্চাদের সর্বনাশ করছে। যে পরীক্ষাটি দুর্নীতির বাসা। এই পরীক্ষা এখন বাচ্চাদের নেই, মা-বাবাদের হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, কোন নীতি সংসদে আজ পর্যন্ত পাশ হয়নি। শুধুমাত্র শিক্ষানীতি সংসদে পাশ হয়েছে। তারপরও এটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নও হয়নি।
‘বিশ্ব দরবারে আলোচনার জন্য লোক দরকার। দেশের উন্নয়ন নীতি তৈরি ও পরিকল্পনা তৈরিতে লোক দরকার। তার জন্য শিক্ষার উন্নয়ন ও মান বাড়ানোরও প্রয়োজন’বলে যোগ করেন এই অর্থনীতিবিদ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষানীতির বয়স ৫ বছর হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে নেই। জিডিপির হিসেব অনুযায়ী এ বছরে শিক্ষায় বরাদ্দ ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে বরাদ্দ কমে গেছে, তাহলে কার জন্য এই বাজেট।
অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২০০০ কোটি টাকা। আর সামরিক খাতের বাজেট কত কোটি বাড়ানো হয়েছে তা পরিস্কার করে বলা হয়নি।
এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণায় কোন বরাদ্দ নেই বাজেটে। মাইক্রোস্কোপ দিয়ে শিক্ষা গবেষণার বরাদ্দ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।
রাসেদা কে চৌধুরী বলেন, ২০০০ সালে বর্তমান সরকার ১৪ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছিল শিক্ষাখাতে। আর এবছর ১১ শতাংশও দেয়নি, দিয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। তাহলে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে কিভাবে মধ্যম আয়ের দেশকে পরিণত করবে।
ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আধ্যাপক আসাদুল হক, আইএইচডির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এমএ/ এআর





