সরকারি জমিতে লিজ নিয়ে মসজিদ নির্মাণ আইনত অবৈধ নয়। তাহলে ঢাকা জেলা প্রশাসন কিভাবে মসজিদে নামায বন্ধ করলো? পাশ্ববর্তী অবৈধ মন্দির তো বন্ধ করলো না। প্রশাসনের এমন হিন্দুত্ববাদ তোষণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে ওলামা লীগ।
মঙ্গলবার কট্টর সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী সংগঠন 'হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদে'র উস্কানীমূলক জিডি’র এবং প্রশাসনের মাধ্যমে গেন্ডারিয়ায় মসজিদ বন্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সংগ্রামী সভাপতি আখতার হোসেন বুখারী ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন।
গেন্ডারিয়ায় অবিলম্বে মুসলমানদের জন্য মসজিদ খুলে দিয়ে মসজিদ বন্ধের চক্রান্তে জড়িত এবং মৌলবাদী হিন্দুগং ও বন্দুক উচিয়ে মুসুল্লিদের উপর হামলাকারী গেন্ডারিয়ার ওসি মিজানকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানান তারা।
ওলামা লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতে একের পর এক মসজিদ বন্ধের ন্যায় এবার গেন্ডরিয়ায় মুসলমানদের মসজিদ বন্ধ করে দেয়া এদেশী মৌলবাদী হিন্দুদের ভয়াবহ চক্রান্ত। ভারতে কোথাও কোন মসজিদ হলে সেটাকে মন্দিরের জমি বলে মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে দেয় মৌলবাদী হিন্দুরা।
একটি দৃষ্টান্ত টেনে তারা বলেন, ২০১০ সাল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোডে, ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাসূলপুরে, ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায়, গত মাসে পশ্চিমবঙ্গের মঙ্গলকোটে উগ্র মৌলবাদী হিন্দুরা মন্দিরের জমির নামে মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে।
তারা বলেন, গেন্ডারিয়াতেও তারা একই চক্রান্ত করেছে। স্থানীয় মুসল্লীরা সরকারি জমিতে লিজ নিয়ে মসজিদ নির্মাণ করলেও মৌলবাদী হিন্দুরা সেটা মন্দিরের জমি বলে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়। কিন্তু মন্দিরের জমির কোন কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি। তারপরও গেন্ডারিয়ার হিন্দুত্ববাদী ওসি মিজান কট্টর সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জিডিকে তদন্ত না করে বন্দুক উচিয়ে মুসুল্লিদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। যা ন্যাক্কারজনক এবং এদেশের পঁচান্নব্বই ভাগ মুসলমানের উপর আঘাতের শামিল।
তারা আরো বলেন, মসজিদ বন্ধসহ নানামূখী চক্রান্তের মাধ্যমে সাম্প্র্রদায়িক ও মৌলবাদী সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদসহ মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনগুলো মোসাদের সাথে জড়িত হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। তারা জামাত-জোট আমলে এসব না করলেও বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে যাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গেন্ডারিয়ার ঐ মসজিদের পাশের মন্দিরেরই কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। এমনকি রমনা কালি মন্দিরসহ দেশের অধিকাংশ মন্দিরেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। হিন্দুদের দাবি অনুযায়ী গেন্ডারিয়ায় মুসলমানদের মসজিদ বন্ধ করলে সারাদেশের অবৈধ মন্দিরও বন্ধ করে দিতে হবে।
এমআইএস





