আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একাধীক স্থানে মননায়নপত্র জমা দেয়ার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সমর্থক প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান শাহ নেওয়াজ।

তিনি বলেন, বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল দাবি করেছেন যে তাঁদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা চাই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন। সেই লক্ষে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্য আপাতত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

তবে সিদ্ধান্ত কমিশনে প্রক্রিয়াধীন আছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেন, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার সকলকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে ইসির এই সিদ্ধান্তে আশাবাদী হতে পারছেন না দেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি। তাঁদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যতই সিদ্ধান্ত নেয়া হোক তা বাস্তবায়ন হবেনা বলেও মনে করেন দেশের তিনবারের ক্ষমতাসীন এই দল।

এ ব্যাপারে বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইসির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর কিছু নাই। সকল প্রার্থী মনোনয়ন যাতে সুষ্ঠভাবে জমা দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা ইসির সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রত্যেকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য যে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার ইসি যদি তা না নেন তবে সেটা তার সংবিধান লঙ্ঘন হবে বলে আমি মনে করি।

ইসির এমন সিদ্ধান্ত ফলপ্রসু হবে কিনা জানতে চাইলে টিপু বলেন, সব রসূনের গোঁড়া এক যায়গায়। অতীতের নির্বাচনে ইসি সরকারের একজন সম্পাদকের ভূমিকা পালন করছেন বলে আমরা মনেকরি। তিনি যদি নিরপেক্ষ থাকতে পারেন তবে তাঁদের এই সিদ্ধান্ত ফলপ্রসু হবে বলে আমরা মনে করি। তবে আমরা তার এই সিদ্ধান্তে আশাবাদী নই।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে ভোটাধিকারকে কেন্দ্র করে। তখন আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পর ইসির সহযোগিতায় তথাকথিত সরকার আবারো আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন। জনগন সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিল, আমরা জনগনকে সাথে নিয়ে আবারো এহেন জুলুমকে প্রতিরোধ করব।
এমএম