জনসমর্থনহীন দখলদার সরকার কেবল কয়েকজন দলবাজ বাহিনী প্রধানের নৃশংসতার উপর টিকে আছে।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম কখনোই অস্ত্র দিয়ে ঠেকানো যাবেনা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
আজ শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
খান আরো বলেন, আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকার উগ্রমনোভাবের কারনেই সরকার জনগণকে রাজনৈতিক পণ্যে পরিণত করেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে জঙ্গীবাদী বলে প্রপগান্ডা চালাচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করার মাধ্যমে এই সরকারই বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে তাই দখলদার সরকারকেই চলতি সংসদ অধিবেশনে সংশোধনী এনে এবং পদত্যাগ করেই এই স্কংট মোচন করতে হবে।
সরকার যদি জনরোষ থেকে বাঁচতে চায় তাহলে অবিলম্বে গণহত্যা, গুপ্তহত্যা বন্ধ করতে হবে। গুম করে রাখা নেতা কর্মীদের ছেড়ে দিতে হবে। মিথ্যা মামলায় আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। সভাসমাবেশের স্বাধীনতা দিতে হবে। দ্রুত সংলাপ সমঝোতার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহনে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।
জামায়াত নেতা আরো বলেন, চলমান আন্দোলন নিছক রাজনৈতিক সংগ্রাম নয় , এটা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানবিকতার সংগ্রাম, জালেমের বিরুদ্ধে ইনসাফের লড়াই, গনহত্যা,গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তার আন্দোলন। রক্তপিপাসী ঘাতকের বিরুদ্ধে মজলুমের প্রতিরোধ সংগ্রাম। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের লড়াইকে বিজয়ী করতে সকল দল-মত-পেশা-ধর্ম-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামকে বিজয়ী করতে হবে। জনতার মিলিত শক্তির কাছে হানাদার বাহিনীর পরাজয সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দেখামাত্র গুলির নির্দেশ অমান্য করে যে জাতি রাজপথের প্রতিরোধ গড়তে পারে, আত্মাহুতি দিতে পারে ,রক্ত দিতে পারে, তাদেও বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা। মহান স্বাধীনতার মাসেই জাতীয় মুক্তির সংগ্রামকে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে যে সঙগ্রাম চলছে তা বিজয়ী হবে।
জনাব খান আরো বলেন, আজ যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রাখতে গণহত্যা,গুম, গননিপীড়ন চালাচ্ছে তারা ভিনদেশী কেউন্ াআমাদের সমাজেই তাদের অবস্থান। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এইসব চিহ্নিত গনদুশমনদেও বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালানোর পথ পাবেনা। সরকারের পতনের সকল চিহ্ন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে তাই আন্দোলনের এই চূড়ান্ত পর্বে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামকে বিজয়ী করতে হবে।
মহানগরী আমীর বলেন, গত এক বছরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকার একে একে দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ও নিষ্ক্রীয় করে ফেলেছে। ফলে এখন দেশে ফ্যাসিবাদ ও অগণতান্ত্রিক অপশক্তির মাতম চলছে। সরকারের জুলুম, নির্যাতন থেকে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধসহ কোন নাগরিক নিরাপদ নয়। প্রতিদিনই খুন হচ্ছে মানুষ। সরকার দলীয় ক্যাডাররা মানুষের ঘর-বাড়ি লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি এখন ক্ষমতার মোহে নিজেরাই মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে চলমান অবরোধ কর্মসূচী সফল করায় মহানগরবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে মহানগরী আমীর বলেন, সরকারের তীব্র বাঁধা, হুমকি-ধমকি, জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার সত্ত্বেও লাগাতার অবরোধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও এলাকায় জামায়াতের কর্মীরা মিছিল অবরোধ করে।
জনগণের এ আন্দোলন বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত আছে এবং থাকবে। প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সরকার পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করতে এবং অবরোধসহ বিরোধী জোটের সকল কর্মসূচী সফল করতে তিনি সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসে মিথ্যাচার ও কারসাজিকে মোকাবিলা করে জনগণের হৃত অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অটল থাকার আহবান জানান তিনি।
এসএইচ





