ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে কখনো কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, ‘দেশ স্বাধীন না করলে আপনারা কিছুই করতে পারতেন না। কার বাপের কত সম্পদ ছিল, এখন কে কোথায় বাড়ি করছেন, গাড়ি করছেন, সব আমাদের জানা আছে।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ গণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ফিরোজ রশিদ বলেন, আমি ৪২ বছর ধরে এখানে (ডিএসই) আছি। কিন্তু কোনোদিন বঙ্গবন্ধুর কথা, মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করা হয়নি। আমি মাঝে মাঝে মনে করতাম, এখানে মনে হয় রাজাকারের সংখ্যাই বেশি।

তিনি বলেন, দেশকে স্বাধীন করেছিলাম বলেই আজকে আপনারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দেশটা স্বাধীন করেছিলাম বলেই আপনারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে বিদেশি পাচার করে দিয়ে, বহাল তবিয়াতে আছেন। দেশটা স্বাধীন করেছিলাম বলেই আজকে আপনারা দেশের বাইরে বাড়ি-ঘর করে বহুত আরামে আছেন। যদি দেশ স্বাধীন না করতাম কোনো কিছুই করতে পারতেন না।

ডিএসইর এই সদস্য বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অনেক বড় বড় অনুষ্ঠান হয়েছে। নাচ-গানের অভাব হয়নি। কিন্তু কোনো দিন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়নি। ঘাটতি আছে। অতএব মাথা উঁচু করে দাঁড়াব, সত্যি কথা বলব। ভেতরে যদি রাজাকারি ভাব কারও থাকে, মুছে দিয়েন, অবমূল্যায়ন করবেন না।

‘এখানে আমরা আছি বলে আপনারা আছেন। দেশটা স্বাধীন না করলে কার বাপের কত সম্পদ ছিল, এখন কে কোথায় বাড়ি করছেন, গাড়ি করছেন, সব আমাদের জানা। এ দেশে কয়টি লোকের গাড়ি ছিল। আমি ঢাকা শহরে ১৯৬২ সালে এসেছি, সবকিছু জানি।’

বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, যুদ্ধ করা মানে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া নয়। যুদ্ধ হলো জীবন দেয়ার খেলা এবং জীবন নেয়ার খেলা। ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে কতো জীবন আমাদের গিয়েছে, হিসাব করিনি। এখনো রাতে অনেক সময় চমকে উঠি, মনে হয় যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে রয়ে গেছি।

তিনি আরও বলেন, অনেক অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখ লেগেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মানুষের মানসিকতা দেখে। আমি বারবার আহত হয়েছি। সবকিছুর পরে মুক্তিযোদ্ধা দেখলে মুখটা কুচকে আসে। এই যে রাজাকারের বাচ্চারা বসছে... দুর্ভাগ্য আমাদের। স্বাধীন দেশে এমনটা ঘটেছে।

আলোচনায় অংশ নেয়া আরেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ অনেক অমিত সম্ভাবনা সুপ্ত অবস্থায় আছে। সেগুলোকে জাগিয়ে তোলার জন্য মুজিববর্ষ। আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী দেখছি। স্বাধীনতার ৫০ বছরও আমরা এই বাংলাদেশে উদযাপন করবো। এটা আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গোলাম আজমের যারা শিষ্য, যারা জামায়াতের নেতা, তারা ভোল পাল্টিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা নতুন চেহারায় মুজিব কোট গায়ে দিয়ে, নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, যে দেশে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) বাড়ে, সেই দেশে মূল্যস্ফিতিও বাড়ে। আমাদের দেশে আজকে জিডিপি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর আমাদের মূল্যস্ফিতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এটা কল্পনা করা যায় না। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যাদের জিডিপি বাড়ে কিন্তু মূল্যস্ফিতি বাড়ে না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান। আর ক্ষণগণনা উদযাপন উদ্বোধন করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ডিএসইর সদস্য মুস্তাক আহমেদ সাদেক, খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন মুন্নী প্রমুখ।

এএইচ