আওয়ামী লীগ গডফাদারদের বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায় মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গডফাদারদের বন্দুকের জোরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চায়। তাই শামীম ওসমান ও হাজারীদের মত গডফাদারদেরকে লালন করছে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষা এবং দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে’ পেশাজীবি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের লেবাস। এ লেবাস পরে তারা জনগণের কাছে যায়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন সফল হয়েছে। আপনারা বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের মানুষ এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম গুলীবিদ্ধ হলে তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই বিএনপিকে দোষারোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে যত অঘটন ঘটুক। তাতে কোন রকম যাচাই বাছাই না করে। তথ্য উপাত্ত ছাড়াই ঢালাওভাবে বিএনপিকে দোষারোপ করে সরকার। তারা বলে এ ঘটনায় বিএনপি জড়িত। অথচ পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগই এসবে জড়িত। একই ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ, ফেনী এবং মিরপুরের কালশীতে সবগুলোতেই আ’লীগ জড়িত।

মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে জোর করে তাদের মত জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। তাই অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়ুন। না হলে জনগণ আপানাদের ঝেটিয়ে বিদায় করবে।

মাহমুদুর রহমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি একজন ব্যতিক্রম ধর্মী মানুষ। নীতির প্রশ্নে কোন আপোষ না করায় সরকারের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, কালশী, ফেনী এবং নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় জড়িত। গডফাদারদের গ্রেপ্তার না করে নিরপরাধ

সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে আটক করে রাখা হয়েছে।

দেশে আজ কেউ নিরাপদ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঘর থেকে বের হয়ে কেউ নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে কিনা সে নিশ্চয়তা নেই। ঘরেও নিরাপদে বসবাস করা যাচ্ছেনা। এখান থেকে বের হয়ে বাসায় যেতে পারব কিনা তাও জানি না।

নিজেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সমগ্র জাতির বিবেকগুলো যেন আজ ঘুমিয়ে পড়ছে। সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করার জন্য আমরা কাজ করছি কিনা তা নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করে দেখুন। ক্ষমতায় গেলে দেশে দুর্নীতি হবে না এমন নিশ্চয়তা জাতিকে দিতে হবে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে জাতি আশাহত হয়েছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা বলেন, তার কাছে দেশ এবং জাতি এমনটি আশা করে না। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের বিরোধীতা করে তিনি বলেন, সরকার তাদের উপর সন্তুষ্ট। কারণ তারা মন্ত্রীত্ব হারানোর ভয়ে সরকারের সমালোচনা করছে না। এছাড়া দলের প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে বসে আছেন।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

ঢাকা, এমএইচ, ২১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ