সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের দায়ে মাহমুদুর রহমান মান্নার বিচার দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ।

সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মান্নার সনদ বাতিলের ব্যাপারটি প্রশাসনিকভাবে আলোচনা করা হবে বলে জানান চবি উপাচার্য ।

জাতীয় সংলাপের অন্যতম উদ্যোক্তা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্নার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানরত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ইউটিউবে ফাঁস হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মান্না।

অডিও ক্লিপে খোকার সঙ্গে আলাপে এক সময়কার চাকসুর জিএস ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মান্নাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা বলতে শোনা যায়।

আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চ শিক্ষা অর্জন ও মুক্তিবুদ্ধি চর্চার অন্যতম স্থান। পবিত্র এ বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থী হত্যা করে রাজনীতি করা কারো কাছে কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতার এ ধরণের কর্মকাণ্ড দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। যা রাষ্ট্রদ্রোহীমূলক কাজ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

উপাচার্য বলেন, মান্নাসহ যারা নাশকতায় ইন্ধন দিয়ে দেশের শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। তা না হলে ‘সুবিধাবাদী চক্রটি’ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই যাবে।

তিনি বলেন, দেশ যখন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিশ্ব প্রতিযোগিতায় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করছে ঠিক সে সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে লিপ্ত হয়েছে একটি কুচক্রীমহল। তারা নিজেদের স্বার্থে সব কিছু করতে পারে। তাই এসব কুচক্রী মহল থেকে সকলকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান উপাচার্য।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে পড়ার সময় ১৯৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে চাকসুর জিএস নির্বাচিত হন মান্না। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে ১৯৭৯ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে ডাকসুরও ভিপি নির্বাচিত হন।

মান্নার সনদ বাতিলের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, আমি গতকাল বিষয়টি শুনেছি। সনদ বাতিলের ব্যাপারটি প্রশাসনিকভাবে আলোচনা করা হবে। দেখা যাক কি করা যায়।

এএইচ