উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল আগামী দিনের সরকার পতনের আন্দোলনে প্রভাব ফেলবে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবেই স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে দেশপ্রেমিক  নাগরিক পার্টি  আয়োজিত ‘উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, গুম-খুন-হত্যা আর মিথ্যা মামলা দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন দমানো যাবে না। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব যে, দেশের জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
মোশাররফ বলেন, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে উপজেলা নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি। কিন্তু এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে না, এটি জেনেও সরকার উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে। কারণ তারা বুঝে গেছে জনগণ তাদের সঙ্গে নেই।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ অতীতেও জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। বর্তমানেও হত্যা, খুন ও নির্যাতন করে মানুষের অধিকার হরণ করতে চায়।
উপজেলা নির্বাচনেও সরকার তাদের দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখতে চায় দাবি করে তিনি বলেন, যার জন্য আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রশাসন ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ফলাফল তাদের পক্ষে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ তাদের সেই অপচেষ্টা সফল হতে দেয়নি।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই প্রহসনের নির্বাচনকে ধামাচাপা দেয়ার জন্যই তারা কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে উপজেলা নির্বাচন করতে চেয়েছিল। কিন্তু এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমান হয়েছে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে দেশের জনগণ ভোট দিতে যায়। এটি প্রমাণ করতেই আমরা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন আলম বলেন, বিশ্বের কোথাও গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনে ভোটের  আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হওয়ার নজির নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তাই করেছে। ১৫৩ আসনে বিজয়ী হয়ে নতুন প্রহসনের নির্বাচন উপহার দিয়েছে। এজন্য তাদের ভোট চোর বলবেন না ভোট ডাকাত বলবেন তা দেশের মানুষেই ঠিক করবে।
তিনি সরকারকে গণতন্ত্র হত্যাকারী আখ্যায়িত করে আরও বলেন, আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা আজ কোথায় হারিয়ে গেছে? আমরা কেন এখনও শেখ সেলিম, লতিফ, ইনু ও মায়াদের হুমকি-ধামকি নীরবে সহ্য করে যাব।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন,  বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল ও আবু নাসের মো. রহমত উল্লাহ, যুবদলের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক প্রমুখ।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ৬ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]