নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, “এটা শামীম ওসমান ভার্সাস আইভীর ঝগড়া না।”
আজ (বুধবার) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় রাইফেল ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান একথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, “সাংবাদিক ভাইয়েরা যাঁরা এখানে আছেন, এই ধরনের একটি প্রেস কনফারেন্স করতে হবে। এটা আমার জন্য খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক ব্যাপার। আপনারা প্রকৃত তথ্য হয়তো পান নাই বিধায় হয়তো, যেটুক তথ্য পেয়েছেন সেটার উপরে ভিত্তি করে কিছু নিউজ ছাপা হয়েছে। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে প্রকৃত সত্য না। এটা শামীর ওসমান ভার্সাস আইভীর কোনো ঝগড়া না। এটা আমি প্রথম কথা বলতে চাই। এখানে যেই বিষয়টা হয়েছে, আমি একটা অপরাধ করেছি। সেই অপরাধটা হচ্ছে আমি গরিব মানুষের পক্ষে কথা বলেছি।”
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ শহরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র বের করা নিয়াজুল প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, “নিয়াজুল আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। তিনি একটি মার্কেটের মালিক। বিএনপির ক্যাডারদের সাথে নিয়ে আইভী নিয়াজুলকে ১০ মিনিট মেরেছে। তাঁর (নিয়াজুল) কাছে লাইসেন্স করা বৈধ পিস্তল ছিল।”নিয়াজুলের বড় ভাই সুইটকে বিএনপির লোকেরা র্যাব দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শামীম ওসমান বলেন, “তাঁর (ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী) সবচেয়ে কাছের লোক তাঁর বন্ধু সুফিয়ান, তাঁর কোমর থেকে পিস্তল বের করে কীভাবে পিস্তল’সহ এই ছবি আসে। এই ছবি কেন দেখা গেল। সুফিয়ানের কোমরে পিস্তল। অস্ত্র নিয়ে গুলি করছে সুমন। কে এই সুমন? আমি ক্লিয়ারলি বলতে চাই, আল্লাহকে শপথ করে বলতে চাই, আল্লাহ বলেছেন, মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। একজন মানুষ কি সবাইকে মারতে গেছে? ইজ ইট পসিবল? প্রশ্ন যারা করে তারাই মনে করে যে, এটা আমার এলাকা, এটা আমার জমিদারি।”
নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ নগর ভবন থেকে বের হয়ে নগরীর বঙ্গবন্ধু রোডের ফুটপাত দিকে হাঁটতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেশ কিছু সমর্থক ছিলেন। পুলিশও তাঁদের সঙ্গে থাকে।
একপর্যায়ে আইভীর সমর্থকরা ফুটপাতে হকারদের বসতে নিষেধ করলে প্রথমে হকাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তখন হকারদের সঙ্গে আইভীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। চাষাঢ়া এলাকায় শামীম ওসমানের সমর্থকরা হকারদের সঙ্গে যোগ দেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হকার ও শামীম ওসমান সমর্থকদের হামলার মুখে মেয়র আইভী বঙ্গবন্ধু সড়কে অনড় অবস্থান করেন। এ সময় তারা মেয়র আইভীর ওপর হামলা চালালে সমর্থকরা মানবদেয়াল তৈরি করে তাঁকে ঢেকে রাখেন। এ সময় তাদের ছোড়া ঢিলে মেয়র আইভী আহত হন।
পরে হকারদের সমর্থনে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান রাজপথে নেমে আসেন। তিনি হকারদের পক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থান করেন। এ সময় আহত আইভী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে অবস্থান নেন। পুলিশ প্রায় ৩০০ ফাঁকা গুলি ও বেশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এমবি





