আলেম ওলামা, পীর-মাশায়েখসহ সর্বস্তরের ইসলামপ্রিয় জনতার অকুণ্ঠ সমর্থন ও গণমানুষের আন্দোলন ও দাবির মুখে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’বহাল থাকায় সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

এছাড়াও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করে দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আহুত হরতালে সরকারের নির্দেশে পুলিশী বাধা ও হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে হরতাল সার্বিকভাবে সফল করায় সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন তিনি।

হরতাল পরবর্তী এক বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, মূলত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগই দেশে ধর্মীয় রাজনীতি ও ইসলামী আদর্শে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ করেছিল। তাদের শাসনামলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে কুরআনের আয়াত ‘রাব্বি যিদনী ইলমা’এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের মনোগ্রাম থেকে ‘ইক্বরা বিসমে রাব্বিকাল লাজি খালাক’তুলে দেয়া হয়েছিল। এমনকি ‘কাজী নজরুল ইসলাম’হল থেকে ‘ইসলাম ’এবং ‘স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম’হল থেকে ‘মুসলিম’শব্দটিও প্রত্যাহার করে নিয়েছিল তদানীন্তন আওয়ামী লীগ সরকার । ফলে একথা স্পষ্টতই প্রমাণিত হয় যে, ইসলামের সাথে আওয়ামী লীগের বৈরিতা সর্বসাম্প্রতিক নয় বরং একেবারেই জন্মগত। তাই ইসলাম বিরোধী এই অপশক্তি সম্পর্কে দেশের সকল মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের মূল টার্গেটই থাকে ইসলামী তাহজীব-তমুদ্দুন মুক্ত দেশ গড়ার। আবার ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে নতুন করে ইসলাম নির্মূলের ষড়যন্ত্র শুরু করে। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার নামে  ধর্মহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জাতি বিধ্বংসী অপতৎপরতা থেকে ফিরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় ইসলাম প্রিয় দেশপ্রেমিক জনতা দূর্বার গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং দেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম বলে যে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, সে পরিচয় টুকুও মুছে ফেলে শেষ পেরেক মারার ষড়যন্ত্র করেছিল।  কিন্তু ইসলামপ্রিয় জনতার তীব্র আন্দোলন ও প্রতিবাদের  মুখে সরকারের সেই ষড়যন্ত্র ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়।

তিনি আরো বলেন, নগরীর প্রতিটি থানায় থানায় শান্তিপূর্ণ মিছিল সমাবেশ ও পিকেটিং করার মাধ্যমে আপামর জনগণ সরকারকে এই বার্তা দিয়েছে  যে, ’রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’বাতিলের যেকোন ষড়যন্ত্র জীবনবাজী রেখে মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত আছে। কিন্তু জুলুমবাজ ও ফ্যাসীবাদী সরকার জনগণের শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচীগুলোতেও  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাধাঁ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

মুগদা এলাকা থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে  পুলিশ হামলা চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের উপর শারিরিক নির্যাতন চালায়। কিন্তু ইসলামপ্রিয় জনতা সরকারের শত বাধা-প্রতিবন্ধকতা ও রক্ষচক্ষু উপেক্ষা করে কেন্দ্র ঘোষিত হরতাল কর্মসূচী সার্বিকভাবে সফল করেছে।

তিনি জনগণের শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশী বাধা হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ  ও গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান এবং হরতাল সফল করায় সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি অভিনন্দন ও আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।

 

এমআইএস।