নতুনভাবে শুরু হওয়া রাজনৈতিক দল এনডিএম বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবার (১৪/০৩/২০১৭) দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। 

জানা যায়, গত ১১জানুয়ারি বিশিষ্ট ধনকুবের মুসা বিন শমসের এর পুত্র ববি হাজ্জাজকে চেয়ারম্যান ও গোলাম মোস্তফাকে সেক্রেটারি করে ১৬ সদস্যের কার্যনির্বাহি কমিটি গঠনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে এনডিএম। চলতে থাকে কার্যক্রম এবং সংগঠন গোছানোর কাজ। গঠনতন্ত্র তৈরিতেও দায়িত্ব দেয়া হয় কয়েকজনকে। কিন্তু এর মাঝে ঝামেলা পাকায়  চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারীর মর্যাদা! এ নিয়ে দলীয় বৈঠকে মতবিরোধ দেখা দেয়।

বিরোধ সূত্রে গত ৩ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সন্ধ্যায় এনডিএমের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের কাছে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, এনডিএমের মহাসচিব এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরীকে দলের মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সৈয়দকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দলীয় গঠনতন্ত্রের ১৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে এনডিএম মহাসচিবের চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন।

বহিষ্কার ঘোষণার বিজ্ঞপ্তির পর থেকে দলের সহ-সভাপতি আবু সৈয়দ ও প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি গোলাম মোস্তাফা আলাদাভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং গত ০৬/০২/২০১৭ তারিখ স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ববি হাজ্জাজসহ পাঁচজনকে এনডিএম থেকে বহিস্কার করে। এরপর আজ (মঙ্গলবার) হঠাৎ করেই প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দলের কার্যক্রম বিলুপ্তি ঘোষণা করেন তারা।

পাঠকের জন্য আবু সৈয়দ ও গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি হবুহু তুলে ধরা হলো।

তারিখঃ১৪/০৩/২০১৭
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএম বিলুপ্ত

দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং সমাবেশের নামে কেন্দ্র ও দেশব্যাপী দল ও দলের বাইরে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে- অভিযোগ এনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন(এনডিএম) বিলুপ্ত করা হয়েছে।

আজ(১৪/০৩/২০১৭) মঙ্গলবার সকালে পল্টনে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্য নির্বাহী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএম বিলুপ্তির ঘোষনা দেন দলের মহাসচিব এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী।

তিনি জানান,অগণতান্ত্রিক ও অরাজনৈতিক আচরণের কারণে ববি হাজ্জাজকে দলের কার্য নির্বাহী কমিটি বহিস্কার করার পরও, এনডিএম এর নামে এই রাজনৈতিক প্রতারক কতিপয় অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি শুরু করে। নির্বাহী কমিটি তার সঙ্গ ছেড়ে দেয়ার পর,কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে এনডিএম এর নামে দলের ভেতরে-বাইরে চাঁদাবাজি শুরু করে একাত্তরের বির্তকিত ব্যক্তি ও কথিত ধনকুবের পুত্র ববি হাজ্জাজ। দিনে দিনে এ নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছে দলের অভ্যন্তরে।

মহাসচিব বলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজিতে সাড়া না পেয়ে এরইমধ্যে সমাবেশের ঘোষনা দিয়ে শুরু করেছে আরো বড় অংকের চাঁদাবাজি। জনে জনে লাখ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়,দলের শীর্ষনেতা ও কর্মীদের ফোন করে যোগাযোগ করতে নানা রকম প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থায় এনডিএম এর কার্য নির্বাহী কমিটি ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এনডিএম এর সাচ্ছা জাতীয়তাবাদী ধারার কর্মীরা রাজনৈতিক অনিয়ম ও অপকর্মের দায়-দায়িত্ব নিতে রাজী নই। যারা এসব আর্থিক অপকর্ম করছে,সকল দায়-দায়িত্ব তাদের ঘাঁড়ে বর্তায়। তাই দলের যৌথসভায় সবার পূর্ণ আস্থা ও সমর্থনের ভিত্তিতে এনডিএম ও এর সকল কার্যক্রম বিলুপ্তর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী বলেন, সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতার চেতনা, জনগণের গণতন্ত্র, নারীর প্রাপ্ত অধিকারের ভিত্তিতে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার মধ্যদিয়ে পরিচ্ছন রাজনীতি নিয়ে শিগগিরই নতুন ধারার রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করবে।

উল্লেখ গত ০৬/০২/২০১৭ তারিখ স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগ,বিশেষ সহকারী(চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষমতা প্রদান) নামে ববির চাপিয়ে দেয়া খসড়ায় গঠনতন্ত্রে অগণতান্ত্রিক পদ সৃষ্টি, এক নায়কতন্ত্র ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা,বিশেষ উপদেষ্টা হতে অর্জিত বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারে উৎসাহী হওয়া,শুরুতে জনগণের গণতন্ত্র উলে¬খ করে অল্প দিনেই মহাসচিবসহ অন্যদের কোন ধরনের মতামত ব্যতিত,বিশেষ সহকারীর বিশেষ সহায়তায় মত প¬াটিয়ে জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র দলীয় মূল চারনীতির নামকরণে পরিবর্তন আনা,একই কায়দায় ঘন ঘন মত প¬াটিয়ে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা,ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকির স্বরে কথা বলা,সাংবাদিকদের কটাক্ষ করে কথা বলা,কানকথা আমলে নেয়া,এক শ্রেণীর হলুদ সাংবাদিকের কূ-পরামর্শ শোনা,রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি কর্মচারীর মতো আচরণ করা,জমিদারী শাসনামলের মতো অফিসে শাহজাদার পদুকা ব্যবহার আর বাকীদের প্রজাদের মতো খালি পায়ে হাটার জন্য বাধ্য করা,দল গঠনের আগেই কর্মীদের অনুদান সংগ্রহে বাধ্য করা,দলে আসতে প্রাথমিক উৎসাহীদের জোর করে সদস্যপত্র পূরণ করা,মাল্টিলেবেল কোম্পানীর মতো ওরিয়েন্ট্যাশনের নামে রাজনৈতিক দলকে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বানিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা লোটা,কর্মচারীর দ্বারা নেতাকর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো,স্বপ্নের দেশ নামে নাগরিক ক্ষমতায়নের ব্যানারে বিদেশ হতে অবৈধ অর্থ স্থান্তান্তরের পায়তারা করা এবং স্বপ্নের দেশ এর ব্যানারে লোক দেখানো জঙ্গিবাদ বিরোধী গবেষণার নামে সরকারের স্বঅবস্থানের সাফাই গেয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে বৃদ্ধাঙুলী দেখিয়ে (কোন ধরনের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করে কপি মাষ্টার বিশেষ সহকারীর মনগড়া রিপোর্ট,যা দেশের বেশীরভাগ সংবাদপত্র প্রকাশে অনিহাপ্রকাশ করে)বিশেষ একটি গোষ্ঠীর শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন(এনডিএম) এর কার্য নির্বাহী কমিটি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধেও বির্তকিত ব্যক্তির পুত্র, রাজনৈতিক প্রতারক ও টগবাজ ববি হাজ্জাজসহ পাঁচজনকে এনডিএম থেকে বহিস্কার করে।

বার্তা প্রেরক

আবু সৈয়দ
ভাইস চেয়ারম্যান,এনডিএম

প্রেস বিজ্ঞপ্তি/জারিফ